December 13, 2018
x

শুধু আপনার নাম এবং ইমেইল নীচের লিখুন এবং আরও খবর পেতে ক্লিক করুন !!

কলকাতা

ঠাসা ভিড় না হলেও দ্বাদশীতেও লাইন শহরের বড় মণ্ডপগুলিতে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দ্বাদশীতেও ‘প্যান্ডেল হপিং’ ছাড়তে নারাজ বড়িশার শ্রাবণী চৌধুরী। তাই ১২ বছরের মেয়ে আরুষিকে নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় চলে এসেছিলেন চেতলা অগ্রণীতে। সঙ্গে ছিলেন স্বামীও। বললেন, পুজোর চারটি দিন যা ভিড় থাকে, তাতে ভয়ে চেতলা, সুরুচি, ত্রিধারাতে গিয়ে প্রতিমা দেখার ঝুঁকি নিতে পারি না। কিন্তু কার্নিভালের সৌজন্যে শহরের বড় বড় পুজোর প্রতিমাগুলি প্রায় সবক’টি রয়েছে। তাই এই দিনটিতেই ঠাকুর দেখব বলে বেছে রেখেছিলাম। শুধু শ্রাবণীদেবীই নয়, সোনারপুরের রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় বা বাগবাজারের অপূর্ব সেনগুপ্তের মতো অনেকেই রবিবাসরীয় সন্ধ্যাতে ভিড় করেছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের এই পুজোতে। ঠাসা ভিড় ছিল না। তাই অনেক মানুষই ফাঁকায় ফাঁকায় প্রতিমা দর্শন করেন। পুলিস, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পুজো কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা ভিড় সামলাচ্ছিলেন। তবে গত সাত-আটদিন যে পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা এদিন অনেকটাই কম থাকায়, তাঁরাও যেন কিছুটা নিশ্চিন্ত ছিলেন। পুজোর অন্যতম কর্তা ফিরহাদ হাকিম বলেন, মানুষের জন্যই তো আমাদের মণ্ডপ। প্রতিটি মানুষ আমাদের প্রতিমা দেখুক, সেটাই চাই।
আবার সেখান হেঁটে দুর্গাপুর ব্রিজের ২০ মিনিটের রাস্তা টপকাতেই আরও একটি বড় পুজো- সুরুচি সঙ্ঘ। ভিড় সেখানে তেমন না থাকলেও খুব একটা কমও ছিল না। এদিনও সন্ধ্যার দিকে মানুষের লাইন দেখতে পাওয়া যায়। পুজো কমিটির কর্তা স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, দুর্গাপুজোকে ঘিরেই তো মানুষের সব আনন্দ। তাই যেক’দিন মণ্ডপে মা দুর্গা থাকবেন, মানুষ তো ভক্তি ভরে আসবেনই। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য সব ব্যবস্থা রাখা রয়েছে।
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বড় পুজো ত্রিধারা সম্মিলনিতে অবশ্য ভিড়ের বহর আরও বেশি। আশপাশে একাধিক পুজোর মণ্ডপে এখনও প্রতিমা রয়েছে। তাই সেগুলি দেখার পাশাপাশি অনেকেই হাজির হচ্ছেন ত্রিধারাতে। ঠাসা ভিড় ছিল এই মণ্ডপে। সঙ্গে ছিল সেলফি তোলার হিড়িকও। পুজো কমিটির কর্তা দেবাশিস কুমারের কথায়, সকাল হোক বা রাত, প্রায় প্রতিটি সময়ই মানুষের আনাগোনা রয়েছে ত্রিধারাতে। তার উপরে এদিন ছিল রবিবার। যে মানুষগুলি ভিড়ের ভয়ে অন্যদিনগুলিতে আসতে পারেননি, তাঁরা এদিন এসেছেন।
দক্ষিণ শহরতলির বড়িশা ক্লাবের পুজোতে বড় লাইন না দেখা গেলেও ভিড় ছিল। পুজো উদ্যোক্তাদের কথায়, মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর একটু হলেও উদ্বিগ্ন ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সরকার যেভাবে কাজ করে গাড়ি চলাচলের রাস্তা তৈরি করে দিল, তাতে লোকজনের আসায় কোনও ভাঁটা পড়েনি। ক্লাবের অন্যতম কর্তা সুদীপ পোল্লের কথায়, মানুষজন নিয়মিত আসছেন। প্রত্যেকে সুষ্ঠভাবে প্রতিমা দর্শনও করছেন।
উত্তর কলকাতার হাতিবাগান সর্বজনীন এবং কাশী বোস লেনের মণ্ডপেও মানুষের ভিড় দেখা গেল। টালিগঞ্জের বাসিন্দা রানু চক্রবর্তী বললেন, কাশী বোস লেন চলতি বছরে যে মণ্ডপ এবং প্রতিমা করেছে, তার প্রশংসা পাড়ায় ফিরে অনেকেই করেছিলেন। কিন্তু উত্তর কলকাতার প্রতিমা দেখতে আসা মানে বিভীষিকা। তাই আর গত দিনগুলিতে আসিনি। সেই জায়গায় দ্বাদশীর দিনে ভিড় কম থাকবে, তাই চলে এলাম।

snws_ad

Follow Me:

নিচে মন্তব্য করুন