চিন-নেপালের চাপে ভারত  

0
8

পার্থ মুখোপাধ্যায় 

জুনের পর সেপ্টেম্বরে,ভারতের বিরুদ্ধে ফের ভূখণ্ড নিয়ে ফের সুর চড়াছে নেপাল।  জুন মাসেই ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ উচ্চগ্রামে নিয়ে গিয়েছিল নেপাল।

নেপালের সংসদের উচ্চকক্ষ অর্থাৎ জাতীয় সভা’তেও পাশ হয়ে গিয়েছিল নতুন মানচিত্র বিল। ভারতের উত্তরাখণ্ডের লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখ, তিন ভূখণ্ডকে নিজেদের দাবি করে নতুন মানচিত্র তৈরি করেছে নেপালের কমিউনিস্ট সরকার।বিতর্কিত সেই মানচিত্রে সবুজ সংকেতও দেয় নেপালের সংসদের উচ্চকক্ষ। এবার উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল ও দেরাদুনকেও নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করেছে তারা। এরপরই ফের ভারতে বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

এদিকে ভারতের রাজনীতি, বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন এমনকি, সংবাদমাধ্যম ও বাণিজ্যক্ষেত্রের মোট ১০ হাজার প্রভাবশালী ব্যক্তির উপর গোপনে নজরদারি চালাচ্ছে একটি চিনা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায়,এলএসি, ভারত ও চিনা সেনার টানাপড়েনের মধ্যেই চলতি সপ্তাহে এই খবর প্রকাশ করে একটি সর্বভারতীয় দৈনিক। সেই রিপোর্ট প্রকাশের পরেই বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি তোলে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বেনুগোপালকে লেখা চিঠিতে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, একটি চিনা সংস্থা কয়েক হাজার ভারতীয়ের অনলাইন কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালাচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়া হয়েছে। বেনুগোপাল বৃহস্পতিবার টুইটারে জানিয়েছেন, কেন্দ্রের তরফে তাঁকে জানানো হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্তের কাজ শেষ করা হবে।

চিনের শেনঝেনের তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থা শেনহুয়া ডেটা ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে ভারতে ব্যাপক আকারে সাইবার নজরদারি চালানোর অভিযোগ তোলা হয়েছিল প্রকাশিত সর্বভারতীয় দৈনিকের সংবাদে।সূত্রের খবর,ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি কোঅর্ডিনেটরের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি শেনহুয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে।বিদেশমন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত সান ওয়েডং এ বিষয়ে দায় এড়িয়েছেন ইতিমধ্যেই। তিনি জানিয়েছেন, শেনহুয়া একটি বেসরকারি সংস্থা, তাই ওই সংস্থার কার্যকলাপের দায় চিন সরকারের নয়।

এর মধ্যেই জানা গিয়েছে, নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি, ইউনিফায়েড নেপাল ন্যাশনাল ফ্রন্টের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গ্রেটার নেপাল প্রচার শুরু করেছে। সেই প্রচারের অঙ্গ হিসেবে ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির আগে নেপালের ম্যাপকেই সামনে আনা হচ্ছে। ওই মানচিত্রে উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এমনকী সিকিমের বড় বড় শহরকেও নিজেদের বলে দাবি করছে নেপাল। জোরকদমে এই প্রচারের অংশ হিসেবে ফেসবুক, ট্যুইটার ও ইউটিউব চ্যানেলে লাগাতার বক্তব্য রাখা হচ্ছে। ভারতের বিরুদ্ধে নবীন প্রজন্মকে উসকানিও দেওয়া হচ্ছে বলে খবর ভারতীয় গোয়েন্দাদের।

উল্লেখ্য, এর আগে উত্তরাখণ্ডের যে তিনটি অঞ্চলকে নেপাল নিজেদের বলে দাবি করছিল, তার কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই বলে তখনই সাফ জানিয়েছিল ভারত। পাশাপাশি ওই অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছিল। ৮ মে লিপুলেখ গিরিপথ থেকে কৈলাস মানস সরোবরে যাওয়ার নতুন ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এর পরেই ভারত এবং নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।সঙ্গেসঙ্গেই এই রাস্তা উদ্বোধনের প্রতিবাদ জানায় কাঠমান্ডু। পালটা হিসেবে নতুন মানচিত্র প্রকাশে উদ্যোগী হয় নেপাল। নতুন মানচিত্রে ভারত-নেপাল সীমান্তের লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখকে নেপালের অংশ হিসেবে দাবি করা হয়। এবার তাতে যোগ করা হয়েছে উত্তরাখণ্ডের এবং হিমাচল প্রদেশের  নৈনিতাল এবং দেরাদুনকেও।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, সীমান্ত নিয়ে কাঠমান্ডুর সাম্প্রতিক এই অতিসক্রিয়তার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে। আরেক প্রতিবেশী দেশ চিন। কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নেপালের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা উত্তোরত্তর বেড়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে ওলি সরকারের এই সক্রিয়তা বলেই মনে করা হচ্ছে।