
হিংসায় উত্তপ্ত মণিপুরে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপের জন্য এন বীরেন সিংয়ের সরকারকে ২৪ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দিয়েছে মেইতেইরা।
অন্যদিকে, চূড়াচাঁদপুর জেলায় প্রতীকী কফিন মিছিল করেছে রাজ্যের কুকি সংগঠনগুলি।
জঙ্গি তকমা দিয়ে সিআরপিএফ বাহিনীর ১০ জন কুকি-জো যুবককে খুনের প্রতিবাদে এই মিছিল ডাক দিয়েছিল জোমি স্টুডেন্টস ফেডারেশন, কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন এবং হমার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। দশম শ্রেণির ঊর্ধ্বে স্কুল-কলেজ পড়ুয়ারা কালো পোশাক পরে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন।মিছিলে ১০টি প্রতীকী কফিন নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, মণিপুরের মেইতেই নাগরিক সমাজ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট।২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকার কঠোর পদক্ষেপ না করলে তারা চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।মেইতেই নাগরিক সমাজের সম্মিলিত এক সংগঠনের তরফে দাবি তোলা হয়েছে,কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে এন বিরেন সিং সরকারকে।পাশাপাশি এনডিএ বিধায়কদের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলিও খারিজ করে দিয়েছে সংগঠনগুলি।
সব মিলিয়ে ৭ নভেম্বর থেকে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মণিপুর। বিশেষ করে জিরিবাম জেলা।পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৪ নভেম্বর নতুন করে কার্যকর হয়েছে আফস্পা। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আরও ৫০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করেছে রাজ্যে। এই পরিস্থিতিতে মণিপুর সংলগ্ন সীমানা বন্ধ রেখেছে অসম।
এর আগে মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে ঘরে-বাইরে চাপের মুখে মণিপুরের বিজেপি সরকার। এই অবস্থায় সচিবালয়ে বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ। সেই বৈঠকে বিজেপি-সহ এনডিএ-র অন্য শরিক দলগুলির ২৭ জন বিধায়ক উপস্থিত থাকলেও গরহাজির ছিলেন ১১ জন। অনুপস্থিত বিধায়কদের মধ্যে ছ’জন গরহাজিরার কারণ হিসাবে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছিলেন। আর পাঁচ জন কিছুই জানাননি।
মণিপুর প্রশাসনের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মূলত দু’টি বিষয় নিয়ে সেই বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই বৈঠকে সিংহভাগ বিধায়ক কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার আর্জি জানান। এর পাশাপাশি মেইতেই অধ্যুষিত ইম্ফল উপত্যকার ছ’টি থানায় সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন আফস্পা প্রত্যাহারের আর্জি জানান ওই বিধায়কেরা। প্রস্তাব আকারে নিজেদের এই দুই দাবি তুলে ধরার পর এনডিএ-র বিধায়কেরা হুঁশিয়ারির সুরে জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেন্দ্র তাঁদের কথা মেনে না-নিলে জনগণের পরামর্শ নিয়ে তাঁরা ভবিষ্যতের কর্মপন্থা স্থির করবেন।এই হুঁশিয়ারি এন বীরেন সিংয়ের সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তা ছাড়াও, একের পর এক বিধায়কের বাড়িতে হামলার ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বৈঠকে যোগ দেওয়া বিধায়কেরা।
পাশাপাশি মণিপুরের পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ব্যর্থ, এমন অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ,এনপিপি। এনপিপি সমর্থন প্রত্যাহার করলেও এন বীরেন সিংয়ের সরকারের পতন ঘটবে, আপাতত এমন সম্ভাবনা নেই। ৬০ আসনের মণিপুর বিধানসভায় বিজেপির ৩২ জন বিধায়ক রয়েছেন। সে রাজ্যে সরকার গঠন কিংবা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জাদুসংখ্যা বা ম্যাজিক ফিগার ৩১। সে দিক থেকে দেখলে বিজেপি একক শক্তিতেই সরকার রক্ষা করতে পারবে।তা ছাড়া এন বীরেন সিংয়ের সরকারকে এখনও পর্যন্ত সমর্থন জানাচ্ছেন এনপিএফ-এর পাঁচ বিধায়ক, নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-এর ছয় বিধায়ক এবং তিন নির্দল বিধায়ক। তাই কনরাডের দলের সাত বিধায়কের সমর্থন খোয়ালেও আপাতত সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে চিন্তা নেই বিজেপির।
তবে তার পরেও অস্বস্তি থাকছে বিজেপির। কারণ রাজ্যে গোষ্ঠীহিংসার আবহে দলের সাত কুকি বিধায়ক বেসুরে বাজছেন। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মেইতেই অধ্যুষিত ইম্ফলে গিয়ে তাঁরা বিধানসভার অধিবেশনেও যোগ দিচ্ছেন না। অন্য দিকে, মেইতেই গোষ্ঠীর বিধায়কেরা কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার জন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি করে যাচ্ছেন। ওই বিধায়কদের দাবি, কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকার আগেই কঠোর অবস্থান নিলে জিরিবাম জেলায় মেইতেই পরিবারের ছয় সদস্যকে অপহরণ এবং খুনের ঘটনা ঘটত না।
