
লগ্নজিতা চক্রবর্তীর সঙ্গীত যাত্রা: বেসুরো থেকে শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি
শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী সম্প্রতি তার সঙ্গীত যাত্রার নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। ছোটবেলা থেকে গানের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল, কিন্তু রেওয়াজের অভাব তাকে অনেক সময় হতাশ করেছে। তবে করোনাকালীন সময়ে সংগীতচর্চায় মনোনিবেশ করে তিনি নতুন করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন। আজ মা-বাবার কাছ থেকে প্রথমবার শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে তিনি আনন্দিত।
গানের প্রতি আগ্রহ ও হতাশা
লগ্নজিতা চক্রবর্তী, যিনি “চতুষ্কোণ” ছবির “বসন্ত এসে গেছে” গানটি গেয়ে দর্শকদের মনে ঝড় তুলেছিলেন, লাইভ শো-তে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়েন। অনেকেই বলেন, তার গান বেসুরে! কিন্তু নিজেকে বেসুরে গায়িকা হিসেবেই মনে করেন লগ্নজিতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছেন যে ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত রেওয়াজ করতে পারেননি এবং বাবার ও গুরুদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতি তাকে কখনও কখনও হতাশ করেছে, তবে তার গানকে ভালোবাসা সবসময় অটুট ছিল।
করোনাকালে নতুন উদ্যম
২০১৪ সালে পেশাদারভাবে গান শুরু করার পরও লগ্নজিতার মনে হয়েছিল যে তার গান খুব খারাপ হচ্ছে—হাজার বেসুরো নোটস এবং শ্বাস নেওয়ার সমস্যা তাঁর কাছে এক ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই ফ্যাসট্রেশন তাকে নিজের গানের ভিডিও দেখা বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল কারণ সে সবসময় শুনতে পেত যে অন্যরা কত সুন্দর গাইছে! তবে করোনাকালে সংগীতের প্রতি মনোনিবেশ করে তিনি আবার চেষ্টা শুরু করেন; যদিও কিছুদিন পরে উন্নতির অভাবে রেগে গিয়ে রেওয়াজও ছেড়ে দেন বলে উল্লেখ করেছেন পোস্টে। এই সময়টা ছিল তাঁর জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে তিনি নিজের প্রতিভাকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ পান।
মা-বাবার স্বীকৃতি
অবশেষে এক অনুষ্ঠানে সলিল চৌধুরীর একটি গান গাওয়ার সুযোগ পান লগ্নজিতা এবং সেখানে বাবা-মাও শ্রোতা ছিলেন। তিনবার ভিডিওটি শুনলেও তারা কোনো ভুল খুঁজে পাননি—এটা ছিল তাঁর জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত! আজ মা-বাবা প্রথমবার তাঁকে একজন শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং বলেছেন যে আজ লগ্নজিতার একটিও ভুল হয়নি; এটি সত্যিই একটি বড় অর্জন! এভাবেই তিনি প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে সকল বাধাকে অতিক্রম করা সম্ভব,
যা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে!







