
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এর মাধ্যমে আমেরিকার প্রায় আড়াইশো বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এক মেয়াদের বিরতিতে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফিরছেন প্রাক্তন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য,৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে ভরাডুবি হয় ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের। নিয়ম মেনে ২০ জানুয়ারির মধ্যে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে জো বাইডেনকে। দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে কমলা হ্যারিসকেও।
তারপর ২০ জানুয়ারি আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কমলা হ্যারিসের স্থলে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন ওহাইওর সিনেটর জে ডি ভ্যান্স। ব্রিটেন বা অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো মার্কিন শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদলীয় নেতা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ নেই।এ কারণে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর কমলা হ্যারিস তার সব সরকারি দায়-দায়িত্ব থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে যাচ্ছেন।
তবে পরাজয় স্বীকার করে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে তিনি হাল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, প্রাপ্য মর্যাদার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন তিনি।
ভোটের পরদিন আমেরিকার ওয়াশিংটনে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত সমর্থকদের উদ্দেশে কমলা হ্যারিস বলেছেন, ভোটে পরাজয় মেনে নিচ্ছেন। তবে লড়াই ছাড়ছেন না। তিনি নারীর অধিকার ও বন্দুক সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং সকল মানুষের প্রাপ্য মর্যাদার জন্য লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন কমলা হ্যারিস।
তিনি বলছিলেন, এই নির্বাচনের ফল তাঁরা যেমনটি চেয়েছিলেন তেমন নয়, যা চেয়েছিলেন তা নয়, যার জন্য ভোট দিয়েছেন সেটি নয়। তবে বলছেন, শুনুন, তাঁর কথা শুনুন,আমেরিকার প্রতিশ্রুতির আলো সর্বদা জ্বলবে।
সমর্থকদের, বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশে কমলা হ্যারিস বলেছেন, কখনো কখনো লড়াই কিছুটা সময় নেয়। এর অর্থ এই নয় যে, জিতব না।তিনি জানেন, অনেকেরই মনে হচ্ছে অন্ধকার সময়ে প্রবেশ করছেন। তিনি আশা করেন,এমনটি হবে না। তবে যদি তা হয়, সবাই মিলে আকাশকে আলো দিয়ে পূর্ণ করবেন,কোটি কোটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলো,আশাবাদ, বিশ্বাস, সত্য ও সেবার আলো দিয়ে। অর্থাৎ, এক কথায় সহজে লড়াইয়ের মাঠ ছেড়ে যাচ্ছেন না কমলা হ্যারিস।








