
সবুজ ও ইতিহাসে মোড়া ছোট্ট একটি গ্রাম মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ ব্লকের লালবাগ মহকুমার বড়নগর। জিয়াগঞ্জ স্টেশন থেকে বড়নগর গ্রামে পৌঁছতে সময় লাগে ১ ঘন্টা।
ভাগীরথী নদীর পাশেই রয়েছে সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এই গ্রামটি। কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রকের কৃষি-পর্যটন প্রতিযোগিতায় ‘সেরা পর্যটন গ্রাম’-এর তকমা পেয়েছে মুর্শিদাবাদের এই গ্রাম। মুখমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এই খবর এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে লিখেছেন , তিনি এটা জানাতে পেরে আনন্দিত যে মুর্শিদাবাদ জেলার বরানগর গ্রামকে ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক কৃষিপর্যটন বিভাগ ‘সেরা পর্যটন গ্রাম’ হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসে বরানগর গ্রামকে এই পুরস্কার তুলে দেবে কেন্দ্র । এই গ্রামে রয়েছে রানি ভবানীর প্যালেস এবং চার বাংলা মন্দির। এই দু’টিই মূলত বড়নগরের আকর্ষণ। যা দেখতে বহু মানুষ মুর্শিদাবাদের এই গ্রামে ভিড় জমায়। বড়নগরে টেরাকোটা মন্দির কমপ্লেক্সের অধীনে চার বাংলা মন্দির ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য বহু মন্দির। পাশাপাশি রয়েছে শিব, কালী, বিষ্ণু সহ বিভিন্ন হিন্দু দেবতার মন্দির। মন্দিরের গায়ে রয়েছে হিন্দু পুরাণের নানা ঘটনাবর্ণিত ছবি। জানা গেছে, রানি ভবানী স্বয়ং অষ্টাদশ শতকে এই মন্দিরগুলি তৈরি করিয়েছিলেন। তাঁর সময়ে এই বড়নগর গ্রামটি ‘ভারতের বারাণসী’ নামে পরিচিত ছিল। চার বাংলা ছাড়াও টেরাকোটা মন্দির কমপ্লেক্সের মন্দিরগুলি হল— ভবানীশ্বর মন্দির, রাজরাজেশ্বরী মন্দির, গঙ্গেশ্বর শিব মন্দির, পঞ্চমুখী শিব মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, আদ্যা মন্দির সহ একাধিক। প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য বহন করে চলেছে মুর্শিদাবাদের বড়নগর। এই গ্রামের বাসিন্দারা অনেকে তাঁত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।বালুচরী, জামদানি, টাঙ্গাইলের মতো সুক্ষ্ম বস্ত্র উৎপাদন করেন তাঁরা। এ ছাড়া, বাঁশ ও বেতের কারুশিল্প, মৃৎশিল্পের সঙ্গেও জড়িত অনেকে। মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যেরাও সক্রিয় বড়নগর গ্রামে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য এই গ্রামে অনেক হোম-স্টে রয়েছে। সেখানে রাত্রিবাসের বন্দোবস্তও রাখা হয়েছে।








