কেন বলিউড ছেড়েছিলেন কমল হাসান

0
60
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন অভিনেতা খুব কমই আছেন, যাঁরা ভাষার সীমানা ভেঙে একাধিক শিল্পে সমান প্রভাব ফেলতে পেরেছেন। কমল হাসান তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, হিন্দি প্রায় সব বড় চলচ্চিত্র শিল্পেই নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি।

কিন্তু আশির দশকে যখন বলিউডে তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, তখনই হঠাৎ মুম্বাই থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছিল ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন। কিন্তু, কেন এমন করেছিলেন কমল হাসান? বহু বছর পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি যে উত্তর দিয়েছিলেন, তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের গল্প নয়, বরং আশি ও নব্বইয়ের দশকের বলিউডের এক অন্ধকার অধ্যায়ের কথাও সামনে নিয়ে আসে। সেই অধ্যায়ের নাম আন্ডারওয়ার্ল্ড, কালোটাকা এবং তারকাখ্যাতির পেছনের অস্বস্তিকর বাস্তবতা। উল্লেখ্য, কমল হাসানের অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল শিশুশিল্পী হিসেবে। কিন্তু সর্বভারতীয় পরিচিতি পাওয়ার ক্ষেত্রে হিন্দি সিনেমার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালক কে বালচন্দরের হাত ধরেই তাঁর বলিউডে প্রবেশ। ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া এক দুজে কে লিয়ে ছিল সেই সময়ের অন্যতম বড় ব্লকবাস্টার। দক্ষিণ ভারতের এক তরুণ ও উত্তর ভারতের এক তরুণীর প্রেমের ট্র্যাজেডি নিয়ে নির্মিত ছবিটি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ছবির সাফল্যের পর রাতারাতি বলিউড তারকায় পরিণত হন কমল। এরপর একের পর এক সফল ছবি। সনম তেরি কসম, ইয়ে তো কামাল তো গায়া, যারা সি জিন্দেগি, সব কটিই তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে। তবে সমালোচকদের দৃষ্টিতে তাঁর সেরা কাজগুলোর একটি ছিল, সাদমা। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন শ্রীদেবী। বক্স অফিসে ছবিটি ততটা সফল না হলেও সময়ের সঙ্গে এটি কাল্ট মর্যাদা পায়।

আজও ভারতীয় সিনেমার অন্যতম আবেগঘন সমাপ্তির উদাহরণ হিসেবে সাদমা’র শেষ দৃশ্যের কথা বলা হয়। এদিকে, মুম্বাইয়ের অনেক তারকা যেখানে একসঙ্গে পাঁচ-ছয়টি সিনেমায় অভিনয় করতেন, সেখানে কমল বিশ্বাস করতেন একটি চরিত্রে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার দর্শনে। শিল্পকে তিনি দেখতেন কারখানার উৎপাদন হিসেবে নয়, সৃজনশীল কাজ হিসেবে। বলিউডের প্রচলিত কাজের ধরন তাঁর কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। একসঙ্গে এতগুলো ছবিতে কাজ করলে অভিনয়ের গভীরতা নষ্ট হয় বলে তিনি মনে করতেন। এই শিল্পদর্শনের পার্থক্যই ছিল বলিউড থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রথম কারণ।