
কেরিয়ার বাঁচাতে তৃণমূলের মঞ্চে গিয়েছিলেন অভিনেতা -পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। জানিয়েছেন সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলেন। আর কোনও উপায় ছিল না তাই।
উল্লেখ্য, গতবছর ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে একাধিকবার চর্চার শিরোনামে থেকেছেন পরমব্রত। বিতর্কের আগুন যখন প্রায় নিভু নিভু, সেসময়ে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে দেখা যায় অভিনেতা-পরিচালকের। সেসময়েই এক ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চেয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটা হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল। শুধু তাই নয়, ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সঙ্গে আর কোনওরকম আইনি জটিলতায় যেতে চান না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। আর এবার টালিগঞ্জে রুদ্রনীল ঘোষের ডাকা বৈঠকে টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে বিস্ফোরক কথা বলেছেন পরমব্রত। জানিয়েছেন টালিগঞ্জের বিশ্বাস ব্রাদার্স-এর জমানায় কোন চাপে পড়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তাঁর কথায় তিনি যেহেতু ইন্ডাস্ট্রি –র সবাইকে বাড়ির লোক ভাবেন, সেইজন্য ব্যক্তিগত অপমানের কথাটা ভাগ করে নিলাম। ভবিষ্যতে যেন এরকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়। এরপরই বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষের উদ্দেশে পরিচালক-অভিনেতার মন্তব্য, তিনি যে অধিকারে এখানে বসে কথা বলছেন, তার প্রাথমিক কারণ রুদ্র আর তাঁর ২৫ বছরের বন্ধুত্ব। রুদ্র এবং আমার বন্ধুত্বের মধ্যে যতটা বেশি বন্ধুত্ব, তার থেকেও বেশি মতপার্থক্য রয়েছে। সেই মতপার্থক্য কখনও ব্যক্তিগত, কখনও রাজনৈতিকও। কিন্তু তাঁরা এই বন্ধুত্বের মধ্যে কখনও রাজনীতি আসতে দেন নি। একইসঙ্গে পরমব্রত চান এবার প্রাক ২০১১ সালের মতো বামফ্রন্ট জমানার ইন্ডাস্ট্রি ফেরত আসুক। উল্লেখ্য বুধবার টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে বৈঠক ডেকেছিলেন শিবপুরের বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। নবর্নিবাচিত তারকা বিধায়কের ডাকে বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, অশোক ধানুকা, সৌরভ দাস, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, শ্রীজিৎ রায়-সহ আরও অনেকে। মূলত টলিউডের অন্দরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হয়। বৈঠকে বিভিন্ন টেকনিশিয়ান্স গিল্ডের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। টেকনিশিয়ানদের মনে এতদিনের যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত ছিল, রুদ্রনীলকে সামনে পেয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সেসব ক্ষোভই উগরে দেন অনেকে। বিভিন্ন টেকনিশিয়ান উপস্থিত হয়ে তাঁদের উপর হওয়া অত্যাচারের বর্ণনা শোনান বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে। কাউকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, কারওর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীয়ের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন। এর আগে, সিনেইন্ডাস্ট্রির ফেডারেশনের অফিসে গঙ্গাজল ছিটিয়ে নবনির্বাচিত বি জে পি বিধায়ক এবং অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী বলেন, বিশ্বাস ব্রাদার্স-এর জমানা শেষ। অরূপ-স্বরূপের দাদাগিরি আর থাকবে না। কারও কোনও ভয় নেই।
আপনারা এবার খোলা হাওয়ায় শ্বাস নিন। তারকা বিধায়কের এহেন মন্তব্যে সিনেইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলীরাও রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। পাপিয়া অধিকারীর পাশে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী মুমতাজ সরকার। মুমতাজ জানান, আগের সরকারের কাছের লোক ছিলেন না বলে তিনি দীর্ঘদিন টলিউডে কাজ পাননি। সরকার বদলের পর এবার স্টুডিওতে পা রাখলেন অভিনেত্রী মুমতাজ। এর মধ্যেই, নবনির্বাচিত বি জে পি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ ২৬টি গিল্ড-এর ৩২ জন সদস্যের অভাব-অভিযোগ শুনে আশ্বাস দিয়েছেন, ফেডারেশন, গিল্ড-সহ টলিউডের সমস্ত সংগঠনের প্রতিনিধি বাছা হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। ভোট দিয়ে প্রতিনিধিদের বাছবেন সদস্যরা।






