
ইরশাদের মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছে না পরিবারের লোকজন। বেলগাছিয়ার ট্রাম ডিপোর কাছে ঘিঞ্জি বস্তির এক চিলতে ভাড়া ঘরেই বাস ইরশাদের পরিবারের।
শুক্রবার ইরশাদ আলমকেই পিটিয়ে মারা হয় মোবাইল চোর সন্দেহে। দিদি মদিনা বেগম, স্ত্রী এবং সাত বছরের ছেলে এবং ১১ বছরের মেয়েকে নিয়ে ছোট্ট ওই ঘরে থাকতেন ইরশাদ। পলেস্তরা খসা ওই ঘরে নেই কোনও জানালা নেই, স্যাঁতসেঁতে ঘরে নেই কোনও বিছানা, মেঝেতে মাদুর পাতা চলে রোজকার জীবন। ঘরের এক পাশে বাসনপত্র ডাই করে রাখা এবং দড়িতে সারি সারি জামাকাপড় শুকচ্ছে। ইরশাদের মৃত্যুর খবর পৌঁছতে ভেঙে পড়েছে পরিবার। কারণ একমাত্র রোজগেরের মৃত্যুর পর কিভাবে সংসার চলবে, কিভাবেই বা চলবে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, তা ভেবেই উঠতে পারছেন না দিদি এবং ইরশাদের স্ত্রী। বারবার তারা একই কথা বলছেন তারা গরিব হতে পারেন, কিন্তু চোর নন। শিক্ষিত ছেলেরা কিভাবে একজন নীরিহ মানুষটাকে মেরে ফেলতে পারলেন। সন্দেহ হওয়ার পর কেনই বা পুলিশের হাতে তুলে দিলেন না। কেন আইন হাতে তুলে নিলেন ছাত্ররা। তাও বুঝতে পারছেন না ইরশাদের পরিবার। রোজের মত শুক্রবারও বাড়ি থেকে কাজে বেরিয়েছিলেন হতভাগ্য ইরশাদ। এরপর চুরির অভিযোগে পিটিয়ে মারা হয়। ঘটনার পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার বাসিন্দারা। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছেন তাঁরা। তাদের আরও দাবি সরকার যদি পরিবারের পাশে না দাঁড়ায় তবে দাফন করা হবে না ইরশাদের দেহ।








