গিলেন-বারি, স্নায়ুর বিরল রোগ

0
145
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

গিলেন-বারি সিনড্রোম বা, জিবিএস ক্রমেই চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।আসলে গিলেন-বারি সিনড্রোম স্নায়ুর এক বিরল রোগ,যা শরীরকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দিতে পারে কিছু দিনের মধ্যেই।

 

স্নায়ু দুর্বল হতে শুরু করে,পেশি অসাড় হয়ে যায়।রোগীর মুখ বেঁকে যেতে পারে, হাঁটাচলা করা বা কথা বলার ক্ষমতা থাকে না অনেক সময়েই। সেই সঙ্গে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসকেরা বলেন এটি অটোইমিউন ডিজ়অর্ডার, অর্থাৎ যখন নিজের শরীরেরই রোগ প্রতিরোধ শক্তি নিজেরই স্নায়ুতন্ত্রকে দুর্বল করতে শুরু করে।ডাক্তাররা বলছেন,কম্পাইলোব্যাক্টর, সাইটোমেগালোভাইরাসের মতো কয়েক রকম ভাইরাসের সংক্রমণে এই রোগ হতে পারে। কেউ কেউ বলছেন কোভিডের পরে গিলেন-বারি সিনড্রোমে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছিল। সাধারণত দেখা যায়, যাঁরা শ্বাসযন্ত্রের কোনও রোগ সারিয়ে উঠছেন বা ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো রোগে ভুগেছেন, তাঁদেরই পরে গিয়ে গিলেন-বারি সিনড্রোম হয়েছে।আবার অনেক সময়ে কোনও ওষুধ বা প্রতিষেধকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এই রোগ হতে পারে।এদিকে পুণেতে যাঁরা আক্রান্ত, তাঁদের অনেকেরই ভয়ঙ্কর শ্বাসের সমস্যা দেখা গিয়েছে। অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। ওই রোগীদের রক্তের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে আক্রান্তদের শরীরে নোরোভাইরাস পাওয়া গিয়েছে, আবার কয়েক জনের রক্তে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর জেজুনি নামে এক ধরনের ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে।এখন প্রশ্ন হলো কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে গিলেন-বারি? উত্তর হলো,মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে এই রোগে। স্নায়ুরোগ চিকিৎসকরা বলছেন,রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে, তা হলে চিন্তার কারণ আছে। অনেক সময়েই দেখা যায়, রোগীর রেসপিরেটরি প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছে।তখন ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দিতেই হবে। সেই সময়ে রোগী কথাও বলতে পারবে না, শ্বাসও নিতে পারবে না।তবে,গিলেন-বারি সিনড্রোম শুরুতেই ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসায় তা সেরে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দু’রকম টেস্ট করা হয়,নার্ভ কন্ডাকশন ভেলোসিটি টেস্ট বা এনসিভি এবং সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড বা সিএসএফ টেস্ট।রোগ ধরা পড়লে তার দু’রকম চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। সাধারণতঃ ইন্ট্রাভেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা আইভিআইজি এবং প্লাজ়মা থেরাপি করে চিকিৎসা করা হয়। এদিকে প্লাজ়মা থেরাপি অল্প কয়েকটা হাসপাতালেই হয়, ইমিউনোথেরাপিই বেশি করা হয়।এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হয়, স্নায়ুর জোর বাড়ে। পাশাপাশি,এই রোগে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোগীকে দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণেও রাখতে হতে পারে। তা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস অবধি হতে পারে।

 

গিলেন-বারি সিনড্রোম কিন্তু ছোঁয়াচে নয়,অর্থাৎ এক জনের থেকে অন্য জনের শরীরে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা নেই।তবে দূষিত জল, খাবার থেকে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।