
প্রথমে পায়েসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ। পরে হাতের শিরা কাটা অবস্থায় দুই মহিলা এবং এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার। ট্যাংরাকাণ্ডে সময় যত বাড়ছে রহস্য আরও জোরালো হচ্ছে।
মৃত ৩ জনের মধ্যে এক মহিলার শিরা কাটা, অন্য এক মহিলার হাতের শিরা এবং গলাতেও কাটার দাগ রয়েছে। তবে কিশোরীর হাতের শিরা কাটা ছিল না। তার মুখ থেকে গ্যাঁজলা বেরোচ্ছিল। এমনটাই পুলিশ সূত্রে খবর। মৃত দুই মহিলার নাম রোমি দে এবং সুদেষ্ণা দে। তাঁদের স্বামীরা বাড়ি থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অভিষিক্তার কাছে গাড়ি নিয়ে মেট্রোর পিলারে ধাক্কা মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে দুই ভাই প্রণয় দে এবং প্রসূন দে সহ আরও একজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন সিপি মনোজ ভর্মা, জয়েন্ট সিপি ক্রাইম রূপেশ কুমার। পুলিশ সূত্রে খবর ভোরে বাইপাসে অভিষিক্তা মোড়ের কাছে একটি গাড়ি মেট্রোর পিলারে ধাক্কা মারে। তাতে দুই ভাই এবং এক কিশোর গুরুতর জখম হন। আহতদের রুবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঁদের মধ্যে একজনের জ্ঞান ছিল। তিনিই পুলিশকে জানায় ট্যাংরার বাড়িতে তিনটি দেহ পড়ে আছে। তিনিই পুলিশকে জানিয়েছিলেন বাড়ির তিনজনই পায়েসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খেয়ে পরে হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করেছেন। এরপরেই ট্যাংরার চিত্ত নিবাশ নামে ওই বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। সেখানে বাড়ির তিনতলা থেকে দুই মহিলা এবং এক কিশোরীর দেহ মেলে। তিনজনের তিনতলায় দেহ আলাদা ঘরে পড়েছিল। তিনতলায় আত্মহত্যা করে থাকলে দোতলায় রক্তের দাগ কিভাবে পাওয়া গেল। তা নিয়ে ধন্ধে রয়েছে পুলিশ। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দে পরিবার। ব্যবসায় আর্থিক টানাপোড়েন চলছিল। তার জেরেই এমন ঘটনা বলে অনুমান। মহিলাদের খুন করা হয়েছে নাকি আত্মহত্যার ঘটনা তা স্পষ্ট করতে পারেননি সিপি মনোজ ভর্মা। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে বলে জানিয়েছেন ।
আহতদের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বাড়ি থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিপি মনোজ ভর্মা।








