
প্রায় দু’দশক পরে আবার বাংলাদেশে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে সেনাবাহিনী। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অশান্ত পরিস্থিতিতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের প্রত্যক্ষ তৎপরতার গঠিত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
নেতৃত্বে ছিলেন, অর্থনীতিবিদ তথা বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর ফখরুদ্দিন আহমেদ। এ বার জনরোষের জেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইস্তফা এবং দেশত্যাগের পর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা।জেনারেল জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে হাসিনার ইস্তফার কথা জানিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগে তিনি সব দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জানিয়ে জেনারেল জামানের দাবি, সুন্দর পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিনও আওয়ামী লীগের প্রাক্তন নেতা এবং হাসিনা ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত। প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট নিজের বাসভবনে খুন করা হয়েছিল সপরিবার শেখ মুজিবর রহমানকে। আর কাকতালীয় ভাবে প্রায় ৫০ বছর পরের এক অগস্টে দেশ ছাড়তে হল মুজিব-কন্যা হাসিনাকে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রমনায় রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক ভাষণে মুজিবর রহমান বলেছিলেন, আমাদের আর দাবায়ে রাখতে পারবা না।বাংলাদেশ রাজনীতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, পড়ুয়াদের আন্দোলনকে দাবায়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু শেষমেশ নতুন করে ছাত্রবিক্ষোভ এবং হিংসা ছড়িয়ে পড়া মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হল শেখ হাসিনাকে।
