
সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় এখনও অবধি ১১ জন শ্রমিক মারা গিয়েছেন। মৃতদের সকলেই পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক। তাঁদের বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলায়।প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে মৃতদের মধ্যে ৯ জনই মালবাজার এলাকার বাসিন্দা।
শ্রমিকের কাজ করার জন্যই তাঁরা সিকিমে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর খবর আসার পরেই পরিবারগুলিতে কান্নার রোল উঠেছে।এদিকে সিকিমের নামচির ওই দুর্ঘটনায় জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে। জানা গিয়েছে,সোমবার দুপুরে ওই নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নামে। ভিতরে আটকে পরেন শ্রমিকরা। ভিতরে এখনও অনেকে আটকে আছেন বলে খবর। মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণের ফলে ধসে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে, জানিয়েছে সিকিম পুলিশ।প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ডুয়ার্সের চা বাগানে প্রত্যেকেই একসময় শ্রমিকের কাজ করতেন। কিন্তু তৃণমূল জমানায় বাগান রুগ্ন হয়ে পড়ে। ঠিকমত বেতনও পাচ্ছিলেন না। সেজন্য শ্রমিকের কাজ নিয়ে বাধ্য হয়ে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর খবর আসার পরেই শোকস্তব্ধ ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ও মেটেলি ব্লক। মেটেলি ব্লক ছাড়াও নাগরাকাটা ব্লকের বাসিন্দা তিনজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এছাড়াও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে।অন্যদিকে প্রবল দুর্যোগের পরিস্থিতিতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে সিকিমে। সোমবার নামচির সামারদুং এলাকার তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নামে। ধসের জেরে সুড়ঙ্গমুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভিতরে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে হঠাৎই বিকট শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে ধস নেমে সুডঙ্গমুখ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর পরেই সেখানে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস লিক হতে শুরু করে, যা উদ্ধারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
