
পেট ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। কম-বেশি সবারই কখনো না কখনো পেটের অস্বস্তি হয়। কখনো এটি সাময়িক গ্যাস বা বদহজমের কারণে হয়, আবার কখনো গুরুতর কোনো রোগেরও ইঙ্গিত দিতে পারে।
উপসর্গের ধরন বুঝে অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। আসলে,খাবার হজমে পাকস্থলীতে যে তরল তৈরি হয়, তাতে প্রচুর এসিড থাকে। কখনো এই অ্যাসিড পাকস্থলীর সুরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে ভেতরের আবরণে জ্বালা সৃষ্টি করে। একে বলা হয় গ্যাস্ট্রাইটিস।ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ যেমন আইবুপ্রোফেন সেবন, অতিরিক্ত মদ্যপান কিংবা মানসিক চাপ এ সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টাসিড বা চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধে এটি নিয়ন্ত্রণে আসে।তবে অবহেলা করলে পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ বা আলসার হতে পারে। এদিকে,পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের উপরের অংশে ক্ষতের সৃষ্টি হলে তাকে পেপটিক আলসার বলা হয়। এর প্রধান কারণ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। দীর্ঘদিন অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা অন্যান্য ব্যথানাশক ওষুধ সেবনেও এ সমস্যা হতে পারে।সেইসঙ্গে,ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণকারীদের ঝুঁকি বেশি।এই ক্ষেত্রে সাধারণত পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানোর ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।ওদিকে,পেটের ডান পাশে বৃহদান্ত্রের শুরুর অংশে থাকা ছোট আঙুলের মতো অঙ্গটি হলো অ্যাপেন্ডিক্স। এতে প্রদাহ হলে তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলা হয়।সাধারণত ব্যথা নাভির আশপাশে শুরু হয়ে ডান পাশে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গেলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।পিত্তথলিতে তৈরি ছোট পাথর বা গলস্টোন পিত্তনালিতে আটকে গেলে তীব্র পেটব্যথা হতে পারে।পাশাপাশি,বমি, জ্বর, গাঢ় রঙের প্রস্রাব বা ফ্যাকাশে পায়খানাও হতে পারে। অনেক সময় পাথর নিজে থেকেই সরে যায়, তবে জটিল হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে,হার্নিয়া হলে অন্ত্রের একটি অংশ পেটের দেয়ালের বাইরে চলে আসে। সেটি যদি পেঁচিয়ে গিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়, তাহলে তীব্র ব্যথা হয়।এ অবস্থায় দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া,পর্যাপ্ত জল পান, ব্যায়াম এবং আঁশযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।তবে সপ্তাহে তিনবারের কম পটি হওয়া, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া বা শক্ত মল হওয়া গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আবার অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হলে তাকে প্যানক্রিয়াটাইটিস বলা হয়। এতে ওপরের পেটে ব্যথা হয়, যা খাওয়ার পর আরও বাড়তে পারে। বমিভাব ও বমিও হতে পারে। বিশ্রামে সেরে গেলেও গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হতে হতে পারে।অনেকেই একে স্টমাক ফ্লু বলে থাকেন। এটি অন্ত্রের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এ সময় পাতলা পটি, পেটে মোচড়, বমিভাব ও বমি হতে পারে।বলা হয়, আক্রান্ত ব্যক্তি বা দূষিত খাবার থেকে এটি ছড়ায়।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলাদা চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়। তবে জ্বর, জলশূন্যতা বা বমি-পায়খানায় রক্ত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অন্যদিকে,ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ,বা,আইবিডির প্রধান দুটি ধরন হলো আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রোন্স ডিজিজ। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অন্ত্রে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে।ডায়রিয়া, পেটব্যথা, জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা ও ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে। ওষুধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আর,ডাইভার্টিকুলাইটিস, সে ক্ষেত্রে,বৃহদান্ত্রের দেয়ালে ছোট ছোট থলির মতো অংশ তৈরি হতে পারে, যেগুলো সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে এগুলোতে প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে তীব্র পেটব্যথা, বমিভাব ও মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দেয়। এছাড়া খাবারে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা পরজীবীর কারণে ফুড পয়জনিং হয়। এতে ডায়রিয়া, বমি ও বমিভাব দেখা দেয়। সাধারণত খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ বা রান্না না করলে এ সমস্যা হয়।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া থাকলে, শরীরে জল শূন্যতা দেখা দিলে বা রক্তমিশ্রিত পটি হলে চিকিৎসা করাতে হবে। ওদিকে,ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম,আইবিএস,বৃহদান্ত্রের একটি সাধারণ সমস্যা। এতে পেটে মোচড়, গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং মলে শ্লেষ্মা দেখা দিতে পারে।
কখনও ডায়রিয়া, কখনও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। সাধারণতঃ খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, হরমোন বা সংক্রমণ এর কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।








