
মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছিল অল্প বাজেটের হরর ছবি অবসেশন। মুক্তির পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেই ঝড় অব্যাবহত আছে।
বক্স অফিসে ভাঙছে একের পর এক রেকর্ড। জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির আয় ২০০ মিলিয়ন ডলার,বা,প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অল্প বাজেটে নির্মিত সিনেমাটির এত আয় অনেকের কাছেই এসেছে বিস্ময় হয়ে। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে ছবিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোকাস ফিচারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্রের মর্যাদা পেয়েছে।এর আগে ১৫ মে আমেরিকায় মুক্তি পায় অবসেশন। মুক্তির পর থেকেই ছবিটি বক্স অফিসে একের পর এক চমক দেখাতে শুরু করে। শুধু উত্তর আমেরিকাতেই ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬১ মিলিয়ন ডলার। চতুর্থ সপ্তাহান্তে এসে ছবিটি মাত্র ৭ শতাংশ আয় হারিয়েছে, যা হরর ঘরানার সিনেমার ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা।এর আগে এই রেকর্ড ছিল ১৯৯৯ সালের কাল্ট ক্ল্যাসিক দ্য ব্লেয়ার উইচ প্রজেক্ট– এর দখলে। সিনেমাটি চতুর্থ সপ্তাহান্তে ৯ শতাংশ আয় হারিয়েছিল। আরও অবাক করা তথ্য হলো, ১৯৮২ সালের ,ই.টি. দ্য এক্সট্রা–টেরেসট্রিরিয়াল –এর পর ,অবসেশন’ই প্রথম চলচ্চিত্র, যার দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহের আয় প্রথম সপ্তাহের তুলনায় উল্টো বেড়েছে।এদিকে,ছবিটির নির্মাতা ক্যারি বারকার হলিউডের পরিচিত নাম ছিলেন না, বরং ইউটিউব ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর পরিচিতি। এর আগে তিনি দ্য চেয়ার নামের একটি হরর শর্টফিল্ম এবং মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল নামের ফাউন্ড-ফুটেজ ছবি নির্মাণ করেছিলেন। এমনকি সেই ছবিটি তিনি ইউটিউবেই বিনা মূল্যে প্রকাশ করেছিলেন। ক্যারি বারকারের প্রথম বড় পরীক্ষা ছিল ২০২৪ সালের চলচ্চিত্র ,মিল্ক অ্যান্ড সেরিয়াল। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ছবিটির বাজেট ছিল মাত্র ৮০০ ডলার। বন্ধুদের নিয়ে একটি সম্পূর্ণ চলচ্চিত্র বানিয়ে ফেলেন তিনি। ছবিটি সরাসরি ইউটিউবে প্রকাশ করেন। সিনেমাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। দর্শক বুঝতে পারেন, এই তরুণ নির্মাতার মধ্যে আলাদা কিছু আছে। সীমিত সম্পদ নিয়েও তিনি ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। এ ছবিই ভবিষ্যতে বড় সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেয়।উল্লেখ্য,২০২৫ সালে বারকার নির্মাণ করেন তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ,অবসেশন। স্বল্প বাজেটের এই হরর চলচ্চিত্র প্রথম প্রদর্শিত হয় টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মিডনাইট ম্যাডনেস বিভাগে। দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়।
ছবিটির স্বত্ব কিনে নেয় ফোকাস ফিচারস। মে মাসে মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি আয় করে প্রায় সাত মিলিয়ন ডলার। এরপর শুরু হয় মুখে মুখে প্রচার। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণ দর্শকের মধ্যে অবসেশন’ ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
