চীনের সমাধিতে ২ হাজার বছর আগের কম্পিউটার

0
117
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

কম্পিউটার বলতে সাধারণত ইলেকট্রনিক চিপ ও বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রকেই বোঝানো হয়। তবে সেই ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে চীনের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা।

পশ্চিম চীনের একটি প্রাচীন সমাধিতে প্রায় ২ হাজার বছর আগের একটি যন্ত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা আধুনিক কম্পিউটারের আদি রূপ হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।চীনা বিজ্ঞানীদের মতে, তি হুয়া জি বা অলংকৃত তাঁত নামে পরিচিত এই যন্ত্রটি মূলত বাইনারি বা দ্বিমিক পদ্ধতিতে কাজ করত, যা আজকের ডিজিটাল প্রযুক্তির মূল ভিত্তি। চায়না অ্যাসোসিয়েশন ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কাস্ট এর গবেষকেরা জানিয়েছেন, যন্ত্রটি ইনপুট আউটপুট ও প্রোগ্রামিং নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতো।২০১২ সালে ছেংদু শহরে মেট্রো লাইন নির্মাণের সময় পশ্চিম হান রাজবংশের খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০ অব্দের একটি সমাধি থেকে চারটি তাঁত যন্ত্রের মডেল উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই যন্ত্রগুলো পুরোপুরি প্রোগ্রামেবল ছিল।আধুনিক কম্পিউটারে যেমন সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়, তেমনি এই প্রাচীন তাঁত যন্ত্রে নকশা করা প্যাটার্ন কার্ড ব্যবহার করা হতো।এসব কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত হতো কোন সুতো ওপরে উঠবে এবং কোনটি নিচে নামবে। আধুনিক কম্পিউটারের ভাষা যেখানে শূন্য ও এক, সেখানে এই যন্ত্রে সুতো ওপরে উঠলে তাকে এক এবং নিচে নামলে শূন্য হিসেবে গণনা করা হতো।এভাবে প্রায় ৯৬ লাখ সুতার সংযোগস্থল নিয়ন্ত্রণ করে জটিল নকশা তৈরি করা সম্ভব হতো, যা বর্তমান বাইনারি ক্যালকুলেশনের প্রাচীন রূপ বলে মনে করছেন গবেষকেরা।দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল বিজ্ঞান ও কম্পিউটিংয়ের সূচনা ইউরোপে।

১৯৪৬ সালে পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত এনিয়াককে প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার হিসেবে ধরা হয়। তবে কাস্ট বলছে, চীনা কারিগররা দু’ হাজার বছর আগেই অটোমেশন ও তথ্য সংরক্ষণের কৌশল আয়ত্ত করেছিলেন।