করোনায় বেকার হবে ৩৩০ কোটি মানুষ

0
97

করোনার তাণ্ডব চলছে বিশ্বজুড়ে, লকডাউন হয়ে গেছে অধিকাংশ দেশ ও শহর।বন্ধ হয়ে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে করোনার যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে,তাতে ৩৩০ কোটি কর্মক্ষম মানুষের আংশিক বা পুরোপুরি বেকার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও।

রাষ্ট্রসংঘের এই সহযোগী সংগঠন বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন সংকট বিশ্বে আর আসেনি।তবে বছরের শেষ ছয়মাসে অর্থনীতির চাকা ঘুরে দাঁড়ালে এবং কার্যকর নীতিকৌশল অবলম্বন করা গেলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।আইএলও বলেছে, যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে বৈশ্বিক কর্মক্ষম মানুষের ৮১ শতাংশ মানে ৩৩০ কোটি আংশিক বা পুরোপুরিভাবে বেকার হয়ে যেতে পারেন।অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী সাড়ে ৩৩০ কোটি মানুষের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।ডিসেম্বরে আড়াই কোটি মানুষের নতুন করে বেকার হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল আইএলও।করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে সেই পূর্বাভাস আর টিকছে না।

ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বহু দেশে লকডাউন চলছে।মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ রয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও।প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।উৎপাদনে যাচ্ছে না বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের আংশিক অথবা সম্পূর্ণভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিচ্ছে।আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেছেন,শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন।উন্নত ও উন্নয়নশীল, দুই ধরনের দেশেই এ সংকট দেখা দিয়েছে।এ পরিস্থিতিতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নিলে হয়তো এ পতন থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

২০২০ সালের সেকেন্ড কোয়ার্টারে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানগুলো ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে আইএলও।এটি প্রায় ২০ কোটি পূর্ণকালীন কর্মজীবী মানুষের চাকরি হারানোর বাস্তবতা সৃষ্টি করবে।সবচেয়ে হুমকির মুখে পড়বে আরব অঞ্চলের দেশগুলো।আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা,আইএলও বলছে, করোনা মহামারিতে মানুষের কাজ এবং ব্যবসা বাণিজ্যে বিপর্যয় নেমে এসেছে।আইএলও’র মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেছেন,উন্নত ও উন্নয়নশীল পুরো বিশ্বের শ্রমবাজারই এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত, সুনির্দিষ্টভাবে ও একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।মানুষকে বাঁচানো ও অর্থনীতি রক্ষায় সঠিক ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।আইএলও-র মতে,আরব দেশগুলোতে কর্মঘন্টা নষ্ট হবে ৮.১ শতাংশ, যা ৫০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমান।আইএলও’র মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি সবচেয়ে বড় সংকট। তবে বছর শেষে বেকারত্ব কি পরিমাণ দাঁড়াবে তা নির্ভর করছে কত দ্রুত বিশ্বনেতারা করোনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সফল হতে পারেন তার ওপর।