
ক্লাসের পরীক্ষা হোক কিংবা চাকরির ইন্টারভিউ,কপালে চিন্তার ভাঁজ খানিকটা কিন্তু থাকবেই। তবে এমন পরিস্থিতি বাগে আনার পুরো চাবিকাঠি আছে আমাদের,মগজাস্ত্রে।
যার মধ্যে রয়েছে বুদ্ধি, স্মৃতি এবং মনঃসংযোগ। এ ছাড়া পরীক্ষায় সাফল্য পেতে আর যা যা দরকার হয়, সবই এ তিনেরই রকমফের। একটু ভাবুন তো! এত এত পড়াশোনা করে মগজাস্ত্রে শান বাড়ানো যায়? নাকি কেউ কেউ তো জন্ম থেকে ব্রিলিয়ান্ট, কেউ কেউ তো আবার বরাবরই একটু বেশি,এ কথা মোটেও ঠিক নয়। কারণ নিষ্ঠা এবং অনুশীলনে সবই মেলে, অন্ততপক্ষে অনেকটাই। আপনি চেষ্টা করে হয়তো আইনস্টাইন হতে পারবেন না,কিন্তু নিজের আইকিউ লেভেল বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ব্যর্থতা সাফল্যে বদলে নেওয়া যায়। তবে শর্ত একটাই- ধৈর্য ধরে অনুশীলনটা চালিয়ে যেতে হবে। দু-চার দিনে হাল ছেড়ে বসে থাকলে চলবে না। প্রথমেই চাপ একদমই নেবেন না। দুশ্চিন্তারও কিছু নেই। ছোট ছোট অভ্যাস, ব্যায়াম, খাওয়াদাওয়া, খেলাধুলা অর্থাৎ প্রাত্যহিক জীবনজীবিকার বাইরে এগুলো মোটেও যাবে না। লাইফস্টাইলে সামান্য কিছু পরিবর্তনই যথেষ্ট।যেমন,আমরা অনেক কাজ রিফ্লেক্সে করে ফেলি, সেগুলো করতে ব্রেনকে কোনো চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হয় না। ব্রেনকে সব সময় অচেনা জিনিসের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অভ্যাস করুন। সকালে উঠে যে হাতে দাঁত মাজতেন, সে হাতের বদলে অন্য হাতে দাঁত মাজুন। পরে দু’ মিনিট পিছু হেঁটে পায়চারি করে নিন। প্রতিদিন কারও সঙ্গে মিনিট ১০ বা ১৫ ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস করুন। এভাবে ব্রেন অচেনা অভিজ্ঞতায় অভ্যস্ত হবে এবং ধীরে ধীরে ব্রেনের শক্তি বাড়বে।পাশাপাশি,মেডিটেশন করলে যে শুধু ট্রেস কমানো যায়, তা নয়। মেডিটেশনে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ে, ধৈর্য, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি সবই বাড়ায়। এটা মোটেও ঝামেলার নয়। শুধু নিজের শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপর মনোযোগ বাড়াতে হবে। অন্য কোনো দিকে মন না দিয়ে একটি একটি করে শ্বাস গুনতে হবে। আর কিছু নয়। দিনে আধঘণ্টাই যথেষ্ট। টানা ৯-১০ মিনিট করে তিনবার বা ১৫ মিনিট করে দুবার করতে পারেন। ঘুম থেকে ওঠার পর হালকা এক্সারসাইজের পর এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে মেডিটেশন করা ভালো।সেইসঙ্গে খাবারে প্রচুর ফলমূল-আনাজপাতি রাখুন। তেল-ঝাল-মসলা খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে পারলে ভালো। বিকাল বা সন্ধ্যার পর হালকা খাবার খাওয়াই স্বাস্থ্যকর।আর, প্রতিদিন নিদেনপক্ষে ৪০-৪৫ মিনিট একটু হালকা ফ্রি-হ্যান্ড বা অ্যারোবিক্স করলেই চলবে। সুস্থ শরীরেই বাস করে সুস্থ মন।অন্যদিকে,সব মানুষ একরকম নয়। কারও মস্তিষ্ক সকাল ৯টায় বেশি ক্রিয়াশীল থাকে, কারও আবার রাত ৯টায়। কেউ আবার রাত ৩টার সময় পড়াশোনায় আগ্রহ পায়। তাই নিজস্ব বায়োলজিক্যাল কক অনুযায়ী নিজের টাইম-টেবিল তৈরি করে নিন। যখন মস্তিষ্ক বিশ্রাম চাইবে, তখনই ঘুমান। অন্তত সাত ঘণ্টা।পাশাপাশি,নতুন অভ্যাস গড়ে তুলুন।যেমন, পড়ার অভ্যাস করুন। এটা আইকিউ বাড়াতে সাহায্য করে। ভালো হয় মাঝে মাঝে ফিজিক্স বা অঙ্কের বই পড়লে। এতে মাথার যুক্তি-লজিক এবং কারণগুলো আয়ত্তের ক্ষমতা বাড়ে।ক্যান্ডি ক্রাশ বা এ ধরনের যে কোনো ধরনের খেলার বদলে পাজল সল্ভ করার খেলা কিংবা ওয়ার্ড গেমগুলো বেশি বেশি খেললে ভালো হয়। অতএব মোবাইল থেকে দূরে থাকাও হলো না,পাশাপাশি মস্তিষ্কচর্চাও হলো।ধাঁধা বা রিডল নিয়ে চর্চা করতে হবে। যুক্তিযুক্ত কারণ, এ-জাতীয় প্রশ্নোত্তরের অভ্যাস করুন। প্রতিদিন এক ঘণ্টা করা উত্তম।সেইসঙ্গে যা করবেন বলে ঠিক করে রেখেছেন, তা হঠাৎই বদলে ফেলুন। যেমন, বন্ধুকে নিয়ে চেনা রেস্তোরাঁয় যাওয়ার প্ল্যান আছে,প্ল্যান চেঞ্জ করে কোনো অচেনা রেস্তোরাঁ ট্রাই করুন। নতুন অভিজ্ঞতায় মস্তিষ্কের ব্যায়াম হয়। নতুন কিছু যেমন,রান্না, ড্রাইভিং, সুইমিং, জাগলিং ইত্যাদি শিখতে পারেন। নতুন কিছু শেখা ও অভ্যাস করলে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ হয়। নতুন ভাষা শেখা ও চর্চা করুন।আসলে প্রোটিন মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতা বাড়ায়। শরীরে নরএপিনেফ্রিন এবং ডোপামাইনের পরিমাণ বাড়ায়।
ফলে মস্তিষ্কের সচেতনতা এবং সমস্যা সমাধানে স্কিল বাড়ে।অনেকে বলেন,নিয়ম করে ডার্ক চকলেট খেলে শরীর, মন ও মস্তিষ্ককে অ্যানার্জি দেয়। এটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ফ্যাভোনলে ভরপুর। ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন ব্রেনে বাড়তি পুষ্টির জোগান দেয়।ভিটামিন বি’ মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ায়। সবুজ শাকপাতা, হোল গ্রেন আটা, চিজ, ডিম এবং মাংসে ভিটামিন বি-এর পরিমাণ বেশি।চিপ্স, কুকিজ এবং প্রসেস্ড বা জাঙ্ক ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো।









