
দেশে কর ব্যবস্থার সরলীকরণ না হলে বিদ্রোহ করবে মানুষ। এভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বাজেট অধিবেশন চলাকালীন সোমবার লোকসভায় কেন্দ্রকে নিশানায় রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে উঠে এসেছে মহাভারত-কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ এবং চক্রব্যূহের প্রসঙ্গ।
তিনি বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীতে এক নতুন চক্রব্যূহ তৈরি হয়েছে। তাও আবার পদ্ম ফুলের আকারে। যার প্রতীক প্রধানমন্ত্রী বুকে পরে থাকেন। অভিমন্যুর সঙ্গে যা করা হয়েছিল, যে ভাবে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছিল চক্রব্যূহে, সেটাই দেশের যুব সমাজ, কৃষক, মহিলা এবং ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে করা হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর যুক্তি, মহাভারতের চক্রব্যূহের রাশ ছিল ছ’জনের হাতে দ্রোণাচার্য, কর্ণ, কৃপাচার্য, কৃতবর্মা, অশ্বত্থামা ও শকুনি। বর্তমান সময়ের চক্রব্যূহে সেই ছ’জন হলেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত, অজিত ডোভাল, অম্বানী ও আদানি।লোকসভায় রাহুল গান্ধী এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আপত্তি জানান স্পিকার ওম বিড়লা। বিজেপি শিবির থেকেও হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। এরপর অবশ্য বিরোধী দলনেতা অম্বানী, আদানি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের নাম প্রত্যাহার করে নেন।কেন্দ্রীয় বাজেটকে দিশাহীন বলে নিশানা করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, দেশে ভয়ংকরভাবে বেড়েছে বেকারত্ব। দেশের বেকার সময়া মেটাতে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কী করেছেন। বাজেটে তিনি ইন্টার্নশিপ উল্লেখ করেছেন, যা নিছক রসিকতা ছাড়া আর কী। প্রথমে পা ভেঙে, এখন ব্যান্ডেজ লাগানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে প্রশ্ন ফাঁস দেশের পড়ুয়াদের জন্য এক বড় সমস্যা। একদিকে প্রশ্ন ফাঁসের চক্রব্যুহ অন্যদিকে বেকারত্বের চক্রব্যুহ । দশ বছরে ৭০ বার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এবং এই প্রথমবার দেশের সেনাকে অগ্নিবীর নামের চক্রব্যূহের ফাঁদে ফেলা হয়েছে।
