গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

30 C
Kolkata
30 C
Kolkata
More
    Home International রাশিয়ায় ‘যৌন মন্ত্রক’

    রাশিয়ায় ‘যৌন মন্ত্রক’

    0
    143

    এক দিকে যুদ্ধ,অন্য দিকে তরুণ-তরুণীদের সন্তানধারণে অনীহা। ফলে হু-হু করে কমছে জন্মহার।

    সেই পরিসংখ্যান হাতে আসতেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন যৌন মন্ত্রক তৈরির পরিকল্পনা করেছেন।খবর, যুবক-যুবতীদের মধ্যে যৌন আকাঙ্ক্ষা তৈরির কাজ করবে মস্কোর এই নয়া মন্ত্রক। সন্তান উৎপাদনের জন্য তাঁদের উৎসাহিত করাই হবে এর প্রধান কাজ। যার দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁর বিশ্বস্ত এক মন্ত্রীর কাঁধে দিতে চলেছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।এদিকে,রাশিয়ার মতো জন্মহারের সমস্যায় ভুগছে দক্ষিণ ইউরোপের দেশ ইটালিও। আর তাই সন্তান উৎপাদনে তরুণ-তরুণীকে উৎসাহিত করতে সরকারি তরফে টাকা ও বাড়ি উপহার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে জর্জিয়া মেলোনি সরকার।ওপাশে জন্মহার হ্রাস পাওয়ায় এক সন্তান নীতি থেকে সরে এসেছে চিন। এক সময়ে পৃথিবীর বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশে বন্ধ্যত্ব বাড়ছে বলে খবর মিলেছে। পাশাপাশি,শিশু কমছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও।অন্যদিকে,২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। তার পর থেকে দু’বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে বহু রুশ সৈনিকের মৃত্যু হয়েছে। গণমাধ্যমগুলির দাবি, নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ছ’লক্ষ ছাপিয়ে গিয়েছে।বর্তমান সময়ে সন্তানধারণে প্রবল অনীহা দেখাচ্ছেন রুশ তরুণীদের একাংশ। এই আবহে জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ২০২২ সালের অগস্টেই বড় ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ১০ ও তারও বেশি সন্তানের জন্ম দিলে সরকারের তরফে মোটা টাকা উপহার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন তিনি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, দশম সন্তানের প্রথম জন্মদিনে মা-কে সরকারের থেকে ১০ লক্ষ রুবল উপহার দেওয়া হবে। তবে ওই সময়ে বাকি ন’সন্তান জীবিত থাকলে তবেই মিলবে এই অর্থ। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা।সোভিয়েত যুগে সন্তান উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই ধরনের প্রকল্প চালু ছিল। যার পোশাকি নাম ছিল ,মাদার হিরোইন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি ১৯৪৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চালু ছিল এই প্রকল্প। দেশের জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ফের তা চালু করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।পুতিনের চালু করা এই প্রকল্প রুশ তরুণীদের মনে সে ভাবে দাগ কাটতে না পারায় পরবর্তী কালে নতুন পরিকল্পনা করে মস্কো। ঠিক হয়, রাত ১০টা থেকে দুটো পর্যন্ত আলো ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হবে। যৌন মিলনের জন্য যুক্তি ছিল, রাতে দীর্ঘ ক্ষণ আলো এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থাকায় তরুণ-তরুণীদের মন বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ থাকছে। ফলে সঙ্গমের উৎসাহ হারাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু এ ভাবে রাতে দীর্ঘ দিন ইন্টারনেট ও আলো বন্ধ রাখা যে সম্ভব নয়, তা অচিরেই বুঝে যান রুশ প্রশাসনিক কর্তারা।এ বছরের সেপ্টেম্বরে আবার কর্মক্ষেত্রে মধ্যাহ্নভোজ ও কফি পানের বিরতির ফাঁকে সঙ্গমের পরামর্শ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর ওই ঘোষণার পর দুনিয়া জুড়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়।

    একই সুর শোনা গিয়েছিল রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েভজেনি শেস্তোপলোভের গলায়। চাকুরিজীবী তরুণ-তরুণীদের অত্যধিক সঙ্গম ও একাধিক সন্তানের জন্ম দেওয়ার কথা বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে।

     

    ছবি  সৌজন্যে : এক্স