
দীর্ঘদিন আগে বরফের একশ ফিট নীচে সমাহিত এক হারিয়ে যাওয়া শহর পুনরায় খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
স্নায়ু যুদ্ধ চলাকালে শহরটি ব্যবহৃত হয়েছে মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে, আর ৫৮ বছর পর আবারও এর খোঁজ মিলল।ক্যাম্প সেঞ্চুরি নামের এই ঘাঁটি গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নির্মিত হয়েছিল ১৯৫৯ সালে, তবে এর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছায়, এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের গোপন লঞ্চ সাইট হিসেবে একে ব্যবহার করার লক্ষ্য নিয়েছিল আমেরিকা।কিন্তু ওই ঘাঁটিতে বরফ পড়তে শুরু হওয়ার পর আমেরিকা এ প্রকল্পকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে ক্যাম্পটি ছেড়ে দেয়।বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স গার্ডনারের সহায়তায় এ বছরের এপ্রিলে গ্রিনল্যান্ডের বরফের মানচিত্র ও ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি অনুমান করতে দেশটির ওপর দিয়ে প্লেন যাত্রা করেছিলেন নাসার বিজ্ঞানী চ্যাড গ্রিন।নিজেদের রেডার-ডিটেক্টিং কাঠামো কীভাবে এ ঘাঁটির টানেল খুঁজে পেয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গার্ডনার বলেছেন,প্রথমে বুঝতে পারেন নি যে এটা আসলে কী ছিল।এ ঘাঁটির অস্তিত্বের বিষয়টি অনেক বছর ধরে জানা থাকলেও এর আগে কখনো তা শনাক্ত করা যায়নি।নাসা বলছে, তাদের নতুন ম্যাপিংয়ে এর বিভিন্ন কাঠামো এমনভাবে ফুটে উঠেছে, যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি।অন্যদিকে,আনুষ্ঠানিকভাবে, ক্যাম্প সেঞ্চুরি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল, কৃত্রিম উপায়ে বরফ তৈরির বিভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখা। কিন্তু এর পেছনের আসল পরিকল্পনা ছিল টপ সিক্রেট, যেখানে সোভিয়েতের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে এই গোপন লঞ্চ সাইট ব্যবহার করার লক্ষ্য ছিল আমেরিকার।এটি পরিত্যাক্ত হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। তবে,আমেরিকা সেখানে আনুমানিক দু’ লাখ লিটারের ডিজেল ও বর্জ্য ফেলে আসায় এর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।এর পর গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ককে এর দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল কারণ এ ভূখণ্ডের মালিকানা ইউরোপীয় দেশটির কাছে।নিজের প্রথম মেয়াদের শেষদিকে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তার ব্যাখ্যানুসারে, এটি একটি বড় রিয়েল এস্টেট চুক্তি হতে পারে।অন্যদিকে,গ্রিনল্যান্ডের বরফের স্তর ক্রমশই গলে যাচ্ছে। তাই এ ভূখণ্ডের নীচে লুকিয়ে থাকতে পারে সোনা, রুবি, হীরা, তামা, অলিভাইন, মার্বেল ও তেলের মতো দামী খনিজ।
