
এখন অনেকে সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার করেন। নিয়মিত শরীরচর্চা ও কঠোর ডায়েটই অনেকের ফিটনেস মন্ত্র।
অন্যদিকে অন্যের সুগঠিত শরীর ও নিয়মানুবর্তিতা দেখে অনুপ্রাণিত হন অনেকেই। কিন্তু একেবারেই একঘেয়ে খাবার যাকে বলে সাদামাঠা হাসপাতালের মতো খাবার অনেকেরই নাপসন্দ । কিন্তু সব নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়ির সকলের জন্য আমিষ রান্না হলেও সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবারই খান। ডায়েট থেকে রুটি বা পরোটা একেবারেই বাদ দিয়ে দেন।দুপুরে কোনও কোনওদিন সামান্য ডাল-ভাত খেলেও লো কার্ব বা, নো কার্ব ডায়েটই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রাতরাশে খান ডিমের সাদা অংশ, স্যালাড, সিদ্ধ সব্জি, সিদ্ধ পেঁপে বা অ্যাভোকাডো।দুপুরে বেশির ভাগ সময়েই সিদ্ধ সব্জি ও স্যালাড। এখন কথা হল, রোজের খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট একেবারেই ছেঁটে ফেলা কি ঠিক? পুষ্টিবিদদের মতে, রুটি বা চাপাটি এবং ভাত ডায়েট থেকে বাদ দিলে প্রথম প্রথম শরীর হালকা লাগবে। পেটের সমস্যা, বদহজমের ধাত থাকলে তা কমে যাবে। চেহারায় জেল্লা আসবে, অনেক বেশি তরতাজা দেখাবে। কিন্তু কিছু সময় পর থেকেই শরীর দুর্বল হতে শুরু করবে। জটিল জৈব যৌগ কার্বোহাইড্রেটের মূল উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন। শরীরের জ্বালানি হল কার্বোহাইড্রেট। কারণ এটি জারিত হয়ে শরীরে শক্তি জোগায়। শরীরে শক্তির প্রাথমিক উপাদানই হল কার্বোহাইড্রেট। তাই রোজের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ভিটামিন বা খনিজ সমৃদ্ধ খাবার যতই রাখুন না কেন, কার্বোহাইড্রেট রাখতেই হবে। শরীর গড়তে বা,স্ট্রাকচারাল গ্রোথ-এর জন্য কার্বোহাইড্রেটই প্রধান উপকরণ। অন্যদিকে,যতটা ক্যালোরি প্রয়োজন তার মধ্যে ৪৫% থেকে ৬৫% কার্বোহাইড্রেট থেকে আসা উচিত। যার ২ হাজার ক্যালোরির প্রয়োজন, তার ৯ শো থেকে ১ হাজার ৩ শো ক্যালোরি আসা উচিত কার্বোহাইড্রেট থেকে। তাই রোজের ডায়েটে ২ শো ৫০ থেকে ৩ শো ৬০ গ্রামের মতো কার্বোহাইড্রেট রাখতেই হবে। যাঁরা লো কার্ব ডায়েট করছেন, তাঁদের দিনে ৫০-১০০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট খেতেই হবে।দুপুরে এক কাপ ভাত বা রাতে হাতে গড়া দুটো রুটি ও সব্জি খেলে সেই চাহিদা পূরণ হবে। সহজপাচ্য যে কোনও খাবার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে কার্বোহাইড্রেট এই দিক থেকে নিরাপদ। পাশাপাশি,ওজন ঝরানোর জন্য যাঁরা ভাত বা রুটি বাদ দিয়েছেন, তাঁদের কার্বোহাইড্রেটের জন্য বিকল্প খাবার বেছে নিতে হবে। বিভিন্ন দানাশস্য, যেমন ওট্স, ডালিয়া, কিনোয়া, সব্জি, বিন্স, কড়াইশুঁটি খেতে হবে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রয়োজনীয় নানা ভিটামিন এবং খনিজে ভরপুর বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ রাখা যেতেই পারে নো কার্ব ডায়েটে। কাঠবাদাম, আখরোট, কাজুও খেতে হবে। তবে নো কার্ব ডায়েট স্বাস্থ্যকর নয়।
কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট সমপরিমাণে আছে, এমন সুষম ডায়েটই শরীরের জন্য জরুরি। তাই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়েই ডায়েট ঠিক করা উচিত।
