
সরকারিভাবে সংশোধিত ওয়াকফ বিল গৃহীত হয়েছে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে। সোমবার ১৪টি সংশোধনী-সহ ওয়াকফ বিল কমিটিতে পাশ হয়। সেই সংশোধনীগুলি নিয়ে বুধবার ভোটাভুটি হয়েছে। সেখানে ১৫টি ভোট পড়েছে সংশোধিত বিলের পক্ষে। বিলের বিপক্ষে পড়েছে ১১টি ভোট। যদিও এই বিলকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছেন বিরোধী সাংসদরা।
উল্লেখ্য,গত বছর আগস্ট মাসে পেশ হয় ওয়াকফ বিল, এই নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদের দাবি মেনে যৌথ সংসদীয় কমিটি গড়েছিল সরকার।প্রাথমিকভাবে ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহেই। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিপোর্ট দিতে না পারায় কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। বাজেট অধিবেশনের শেষ দিন পর্যন্ত কমিটিকে সময় দেওয়া হয়। তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ১৪টি সংশোধনী-সহ ওয়াকফ বিলকে সবুজ সংকেত দেয় কমিটি।
জানা গিয়েছে, কমিটি গঠনের পর ওয়াকফ বিল নিয়ে ৩৮টি বৈঠক হয়েছে। শেষ দফার বৈঠকে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কমিটির চেয়ারম্যান জগদম্বিকা পাল জানান, বিজেপির পক্ষ থেকে ২৩টি সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছিল। তার মধ্যে ১৪টি গৃহীত হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের আনা ৪৪টি সংশোধনীর প্রত্যেকটিই খারিজ হয়েছে। বিরোধীরা যা প্রস্তাব করেছেন তার পক্ষে মাত্র ১০টি করে ভোট পড়েছে।
এর মধ্যে খবর ১৪টি সংশোধনী নিয়ে বুধবার ফের ভোটাভুটি হয়েছে কমিটিতে। তারপরেই সরকারিভাবে গৃহীত হয়েছে বিতর্কিত ওয়াকফ বিল। সংশোধনীর পক্ষে ফল ১৫-১১। জগদম্বিকা পাল জানিয়েছেন, বিরোধীরা যেসমস্ত ক্ষেত্রে আপত্তি তুলেছিলেন সেগুলিও সংশোধনের আওতায় রাখা হয়েছে। এই বিল কার্যকর হলে ওয়াকফ বোর্ডের কার্যপদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আসবে। যদিও বিরোধীদের মতে, সংশোধিত হলেও এই বিল অসাংবিধানিক। কারণ মুসলিমদের ধর্মীয় ব্যাপারে সরকারি হস্তক্ষেপ বাড়তে পারে এই বিলের মাধ্যমে।
সূত্রের মতে, খসড়া বিলে ওয়াকফ বোর্ডে অ-মুসলিম সদস্য নিয়োগ ছাড়াও কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব জেলাশাসকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়েও তীব্র আপত্তি ছিল বিরোধীদের। সূত্রের মতে, বিলে দাউদি বোরা ও আগা খানি সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা বোর্ড গঠনের সুপারিশ করেছিল সরকার। কিন্তু ওই দুই সম্প্রদায় বিলের আওতার বাইরে থাকার জন্য আবেদন জানায়। সূত্রের মতে, সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। একই ভাবে কোনও ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পাঁচ বছর পরে ওয়াকফ বোর্ডকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন বলে যে সুপারিশ সরকার করেছিল, তা মেনে নেওয়া হয়েছে খসড়া বিলে।
