
আয়ুর্বেদিক মূল যষ্টিমধুর কথা অনেকে শুনেছেন। গলা ব্যথা ও কাশির জন্য এটিকে কার্যকর ওষুধ হিসেবে ধরা হয়। আয়ুর্বেদে এর অনেক উপকারিতা উল্লেখ করা হয়েছে।
যষ্টিমধু খাওয়া কেবল কাশি নিরাময়েই সাহায্য করে না, বরং আরো অনেক সমস্যায়ও সাহায্য করে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহ ও জীবাণুবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা শুধু গলার সংক্রমণ দূর করে না, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।বলা হয়,যষ্টিমধুর রসে ব্রঙ্কোডাইলেটর বৈশিষ্ট্য রয়েছে,যা কাশি ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যায় সাহায্য করে।কাঁচা যষ্টিমধু চিবিয়ে খেলে কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যষ্টিমধুর জল পান করলে গলা ব্যথা উপশম হয়।এদিকে যষ্টিমধুতে কিছু এনজাইম থাকে, যা শরীরে লিম্ফোসাইট ও ম্যাক্রোফেজ তৈরিতে সাহায্য করে।এই কোষগুলোর কাজ হলো ব্যাকটেরিয়া, অ্যালার্জি ও দূষণের কারণে শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা।অন্যদিকে,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন যষ্টিমধুর চা তৈরি করে পান করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।বলা হয় মহিলাদের পিরিয়ডের সময় খিঁচুনি এবং মেনোপজের সময় ঘটে যাওয়া সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় এই যষ্টিমধু রস।শুধু তা-ই নয়,অনেক সময় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পিসিওএস এবং পিসিওডি-তে যষ্টিমধুর রস খাওয়ার পরামর্শ দেন।এটি শরীর থেকে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।ত্বকের অ্যালার্জি ও ফোলাভাব কমাতে যষ্টিমধুর রস অনেক সাহায্য করে। যষ্টিমধুর রসের সাহায্যে ত্বকে ব্রণের সমস্যা কমানো যায়।আবার,যষ্টিমধুর শিকড় চুষলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স, বুকজ্বালা ও বদহজম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন যষ্টিমধুর রস খাওয়া অ্যাসিড রিফ্লাক্সের জন্য বেশি কার্যকর।ওদিকে,ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, যষ্টিমধুর মূল নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর।
পাশাপাশি, গবেষণা অনুসারে, যষ্টিমধুর মূলে গ্লাইসাইরিজিন পাওয়া গেছে, যা হাঁপানিতে উপশম দিতে পারে।এছাড়া প্রতিদিন যষ্টিমধুর জল দিয়ে দাঁত ধুয়ে ফেললে অথবা যষ্টিমধুর মূল চুষলে দাঁতের ক্ষয় রোধ করা যায়। শুধু তা-ই নয়, এটি দাঁতের ব্যথা ও মুখের দুর্গন্ধও দূর করে।








