
ওয়াকফ বিলের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নোট অফ ডিসেন্ট’ জমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জেপিসি-র রিপোর্ট সহ ওয়াকফ বিলের সংশোধিত খসড়ার বিতর্কিত অংশগুলিতে সাদা কাগজ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে কিংবা সাদা কালী দিয়ে তা মুছে ফেলা হয়েছে।
রাজ্যসভায় বিলটি গৃহীত হতেই এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাজ্যসভার বিরোধী সাংসদরা। ওয়াকফ বিল সংক্রান্ত জেপিসির সদস্য তথা বিজেপি সাংসদ মেধা বিশরাম কুলকার্নি বৃহস্পতিবার রিপোর্টটি পেশ করেছেন। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন, জেপিসির বিরোধী সদস্যরা ওয়াকফ বিলের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নোট অফ ডিসেন্ট জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু রিপোর্ট থেকে সেগুলি মুছে ফেলা হয়েছে। যদিও সংসদীয় ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সেই অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, এমন কিছুই হয়নি। সংঘাতের এই আবহে বৃহস্পতিবার রিপোর্ট পেশের পরেই শুরু হয় হট্টগোল। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় বার বার বিরোধীদের নিরস্ত হওয়ার আবেদন জানালেও তাতে কাজ হয়নি। প্রাথমিক ভাবে সভা মুলতুবি করে দেন তিনি। এর পর আবার অধিবেশন শুরু হলেও গন্ডগোল চলতে থাকে। রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদজ্ঞাপক বিবৃতি পড়ার সময়ও সভায় স্লোগান ওঠায় বিরক্ত জগদীপ ধনখড় বলেছেন, রাষ্ট্রপতির অবমাননা হচ্ছে। রাজ্যসভার জিরো আওয়ারে অশান্তি সৃষ্টির জন্য নির্দিষ্ট ভাবে দুই তৃণমূল সাংসদ, সামিরুল ইসলাম ও নাদিমুল হক এবং ডিএমকের এম মহম্মদ আবদুল্লার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়।৩০ ডিসেম্বর জেপিসির বৈঠকে ভোটাভুটির মাধ্যমে চূড়ান্ত ওয়াকফ বিল সংশোধনী সংক্রান্ত রিপোর্ট পাশ হয়। তার পরে ৩১ ডিসেম্বর ওই রিপোর্ট স্পিকারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন জেপিসি চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল। পরে তিনি জানান, ওয়াকফ বিল নিয়ে জেপিসির মোট ৩৮টি বৈঠক হয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে জড়িত প্রায় ২৫০টি পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি হয়েছে।যদিও সংখ্যাধিক্যের জোরে জেপিসিতে ওয়াকফ বিল পাশ করা হয়েছে অভিযোগ তুলে তার তীব্র সমালোচনা করেন প্রায় সব বিরোধী দলের নেতারা।







