
সাধারণতঃ লিভারের সমস্যার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ শুরুতেই দেখা যায়। কিন্তু সচেতনতার অভাবে আমরা সেগুলোকে গুরুত্ব দিই না। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। লিভার বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা খিদে কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো লিভার ফেইলিওরের ইঙ্গিত হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ জন্ডিসে আক্রান্ত হলে প্রথমেই জিজ্ঞেস করা হয়, খিদে হচ্ছে কি না।
যদি রোগী জানান যে খিদে হচ্ছে,তাহলে বোঝা যায় যে লিভার এখনো কার্যক্ষম রয়েছে।কিন্তু খিদে কমে যাওয়াটা লিভারের জন্য খারাপ লক্ষণ।লিভারের ক্ষতি বোঝার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো ডান পাশে ব্যথা হওয়া।এটি গলব্লাডার স্টোনের লক্ষণও হতে পারে।এই সমস্যাগুলো অবহেলা না করে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।অতিরিক্ত পেট ফাঁপার সমস্যা বা ঘুমের সময় নাক ডাকার মতো সমস্যাও লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে।এ ছাড়া ঘন ঘন অ্যাসিডিটির সমস্যাও লিভারের অবস্থা খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, লিভারের যেকোনো সমস্যায় অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। সুস্থ জীবনযাত্রা বজায় রাখাটা অত্যন্ত জরুরি।নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম অবশ্যই প্রয়োজন।সেই সঙ্গে অ্যালকোহল সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই ভালো। আসলে,লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।এটি রক্ত পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তাই লিভারকে সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। লিভার ভালো রাখার জন্যে প্রচুর ফল, শাক-সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খান। চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত জল পান করুন। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। নিয়মিত অ্যালকোহল পান থেকে লিভার সিরোসিস হতে পারে। সেইসঙ্গে,ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। মোটা হওয়ার কারণে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখুন।পাশাপাশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খান। ভিটামিন সি এবং ই সমৃদ্ধ খাবার লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করুন। লিভারের কার্যক্ষমতা বুঝতে সময়মতো ব্লাড টেস্ট বা আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করান।ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খান।এ ছাড়া যেকোনো ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।মনে রাখবেন,নিজে নিজে বা অন্যের কথায় যেকোনো ওষুধ খেয়ে নিলে তাতে লিভারের ক্ষতিও হতে পারে।পাশাপাশি টক্সিন থেকে দূরে থাকুন। কীটনাশক বা ক্লিনারের মতো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের সময় সুরক্ষা নিন। এগুলো লিভারের ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে,হেপাটাইটিসের প্রতিরোধ করুন। হেপাটাইটিস এ এবং বি ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা নিন। নিরাপদ খাদ্য ও জল গ্রহণ করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ সরাসরি লিভারের ওপর প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। মানসিক চাপ কমাতে ব্যায়াম করুন। আর,দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সব মিলিয়ে,সুস্থ জীবনযাত্রা মেনে চললে লিভারের রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সুতরাং আজ থেকেই নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।








