
মঙ্গলের আকাশে ভেসে বেড়ানো লাল ও সবুজ রঙের মেঘের মনোমুগ্ধকর ছবি তুলেছে নাসার কিউরিওসিটি রোভার। এসব মেঘকে সাধারণত নকটিলুসেন্ট ক্লাউড বা নিশাচর মেঘ বলে, ল্যাটিন ভাষায় যার অর্থ রাতের আলো।
এগুলোর দেখা মেলে গোধূলির সময়। কারণ অস্তগামী সূর্য এসব মেঘের মধ্য দিয়ে আলো ছড়িয়ে দেয় বলে এগুলো দৃশ্যমান হয়।২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ১৬ মিনিটের পর্যবেক্ষণে এসব মেঘের ছবি তুলেছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র কিউরিওসিটি রোভার।ছবিতে দেখা যাচ্ছে,মঙ্গলের আকাশে ভেসে বেড়ানো সূক্ষ্ম ও জ্বলজ্বলে মেঘ। এর মধ্যে কিছু মেঘে রংধনুর মতো ইরিডিসেন্সও দেখা গিয়েছে,যা পৃথিবীতে দেখা মাদার অফ পার্ল মেঘের মতোই।ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মেঘের কণা যখন সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণ ঘটায় তখন মেঘে এমন ঝলমলে রং তৈরি হয়।বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলীয় বরফ বা কার্বন ডাই অক্সাইড বরফ, যা সাধারণত শুষ্ক বরফ হিসাবে পরিচিত তা দিয়ে তৈরি হতে পারে মঙ্গল গ্রহের মেঘ।মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের ৯৫ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড দিয়ে তৈরি,তাই এসব ছবিতে এতো উঁচুতে থাকা মেঘ কার্বন ডাই অক্সাইড বরফ দিয়ে তৈরি হতে পারে।গ্রহটির পৃষ্ঠ থেকে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার উপরে তৈরি হয় এসব মেঘ। কিউরিওসিটি রোভারের ছবিতে সাদা বরফের টুকরা বাতাসে কুণ্ডলী পাকিয়ে পড়তেও দেখা যাচ্ছে ছবিতে।এসব শুষ্ক বরফের মেঘ ক্রমাগত তাপমাত্রার কারণে বাষ্পীভূত হওয়ার আগে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত নীচে নেমে আসে।
পাশাপাশি একই উচ্চতায় জল বরফের এসব মেঘকে উল্টো দিকে সরে যেতেও দেখা যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ১৯৯৭ সালে মঙ্গলে গোধূলি মেঘ দেখতে পান বিজ্ঞানী। ওই সময় নাসার পাথফাইন্ডার মিশন এসব মেঘের ছবি তুলেছিল।







