গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

31 C
Kolkata
31 C
Kolkata
More
    Home Lifestyle শিশুদের মধ্যে বাত বাড়ছে

    শিশুদের মধ্যে বাত বাড়ছে

    0
    148
    ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    শিশুর বয়স ৮-৯ মাস,ঘন ঘন জ্বর,সারা শরীরে র‍্যাশ, হাত ও পায়ের পাতা লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। পরীক্ষা করে ধরা পড়ে, কাওয়াসাকি রোগে আক্রান্ত সেই শিশু।

    পরে গুজরাট থেকে কলকাতায় নিয়ে আসার পরে অভিজ্ঞ অস্থিরোগ চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, শিশুটি জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিসে, বা, জিআইএ আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, ওই বয়সেই বাতের ব্যথা গ্রাস করতে শুরু করেছে তাকে।আবার একটি মেয়ে,পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যায়। পরীক্ষা করে দেখা যায়, সমস্যা কেবল পেটের নয়, শিশুটির রক্তচাপও বেড়ে গিয়েছে। সে মায়োসাইটিস নামে পেশির প্রদাহজনিত অসুখে আক্রান্ত।পরবর্তী কালে শিশুটির আর্থ্রাইটিস ধরা পড়ে।এখন শিশুটি চিকিৎসারত।আবার,কোভিড পর্ব চলাকালীন সিউড়ি জেলা হাসপাতালে আট থেকে নয় বছরের কয়েক জন ছেলেমেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বেশির ভাগই কোভিডে আক্রান্ত। পরীক্ষা করে ধরা পড়ে, তারা অনেকেই অটোইমিউন স্পেকট্রাম ডিজ়অর্ডারে ভুগছে।পরে ধরা পড়ে, আরএইচ ফ্যাক্টর পজ়িটিভ। অর্থাৎ, তারা আর্থ্রাইটিসের শিকার।আসলে একটা সময়ে মনে করা হত, বাত বা আর্থ্রাইটিস কেবল প্রাপ্তবয়স্কদেরই হয়। কিন্তু, তা নয়। বাতজনিত অসুখে ভোগে শিশুরাও। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের বাত আর শিশুদের বাতের মধ্যে অনেকটাই পার্থক্য রয়েছে।এদিকে,শিশুদের থেকে বাতের বিষয়টি বেশ জটিল।ওদিকে,অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বা হাত-পায়ে যন্ত্রণা মানেই বাত নয়। শিশুদের বৃদ্ধির সময়ে হাড়ের বৃদ্ধির ব্যথা বা গ্রোথ পেন খুব ভোগায়। তার সঙ্গে আর্থ্রাইটিসকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। বলা ভাল, শিশুদের বাত কিন্তু বিরল রোগের মধ্যেই পড়ে।সারানোর পদ্ধতিও সহজ নয়। সাধারণতঃ,১৬ বছরের নীচে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের যে আর্থ্রাইটিস হয়, তাকে জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস বলা হয়। আগে বলা হত,জুভেনাইল রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস। ওদিকে ইডিওপ্যাথিক কথাটির মানে হল ,অজানা।সব মিলিয়ে শিশুদের বাত কেন হয়, তার সঠিক কারণ আজও জানা যায়নি।মূলত এটি এক প্রকার অটোইমিউন ডিজ়অর্ডার।সহজ করে বললে, যখন নিজের শরীরই শত্রু হয়ে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধী কোষগুলি অর্থাৎ ইমিউন কোষগুলি অন্যান্য সুস্থ কোষের উপর হামলা চালাতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ইমিউন সিস্টেম কিছু অ্যান্টিবডি বা,প্রোটিন তৈরি করে, যা দেহের সুস্থ কোষগুলিকে নষ্ট করতে থাকে। তখন প্রদাহ বাড়ে এবং পেশিতে ও অস্থিসন্ধিতে যন্ত্রণা শুরু হয়।এটা হল কারণ, আর রোগের প্রকাশটা হয় অন্য ভাবে। আচমকাই জ্বর, গায়ে ব্যথা, আর তার পরেই ধরা পড়ে আর্থ্রাইটিস। অনেকের আবার কাওয়াসাকি রোগও হয়, আর তা থেকেই আর্থ্রাইটিসের সূত্রপাত হয়। ভ্যাস্কুলাইটিস বা কাওয়াসাকি দিয়ে শুরুটা হয় অনেক শিশুর। এই অসুখের শুরুতে ১০২ ডিগ্রি বা তারও বেশি জ্বর হয়। তিন দিন বা তারও বেশি সময় ধরে জ্বর চলতে থাকে। ঠোঁট ও চোখ লাল হয়ে যায়। শরীরের গ্রন্থিগুলি ফুলে ওঠে।তারপর মাল্টিপল সিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিনড্রোম দেখা দেয়।

    যার থেকে শরীরের নানা অঙ্গের ক্ষতি হতে থাকে। হার্টের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মায়োকার্ডাইটিস হতে পারে এবং এর থেকে পরবর্তী কালে আর্থ্রাইটিসও হয়।