গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

34 C
Kolkata
34 C
Kolkata
More
    Home Lifestyle ওভারিয়ান ক্যান্সার : নীরবে বেড়ে চলা ঘাতক

    ওভারিয়ান ক্যান্সার : নীরবে বেড়ে চলা ঘাতক

    0
    122
    ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    মহিলাদের যেসব ক্যান্সার দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো ওভারিয়ান ক্যান্সার। এই রোগ মহিলাদের প্রজননতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ডিম্বাশয়ে, ওভারি-তে হয়ে থাকে। জরায়ুর দু’ পাশে অবস্থিত ডিম্বাশয় ডিম্বাণু ও হরমোন তৈরি করে।

    যখন এই ডিম্বাশয়ে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে এবং তা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে ওভারিয়ান ক্যান্সার বলা হয়।ওভারি মূলত তিন ধরনের কোষ দিয়ে গঠিত। বাইরের আবরণ বা এপিথেলিয়াল কোষ, ডিম্বাণু তৈরিকারী জীবাণু কোষ এবং হরমোন উৎপাদনকারী স্ট্রোমাল কোষ। এই প্রতিটি কোষ থেকেই ক্যান্সার হতে পারে।এদিকে,সবচেয়ে বেশি যে ধরনের ক্যান্সার দেখা যায়, তা হলো, এপিথেলিয়াল ওভারিয়ান ক্যান্সার।এটি প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। জীবাণু কোষ থেকে ক্যান্সার সাধারণত কম বয়সীদের মধ্যে দেখা যায়।এটি তুলনামূলকভাবে বিরল।স্ট্রোমাল কোষ থেকেও ক্যান্সার হতে পারে, যা যেকোনো বয়সে হতে পারে।প্রাথমিক অবস্থায় ওভারিয়ান ক্যান্সারের লক্ষণ খুব স্পষ্ট হয় না। অধিকাংশ রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে যান,তখন ক্যান্সার অনেকটা ছড়িয়ে পড়ে এবং অবস্থাও জটিল হয়ে যায়। সাধারণত খাওয়ার অরুচি, অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি বা ফাঁপা ভাব, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, পেটে ব্যথা বা চাকা অনুভব হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।অনেক সময় রোগীরা কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা সহবাসে ব্যথার মতো সমস্যাও অনুভব করেন। এগুলোর বেশিরভাগই অস্পষ্ট হওয়ায় অনেকেই ক্যান্সার সন্দেহ করেন না এবং দেরিতে চিকিৎসা শুরু করেন।এর বাইরে,কিছু কারণে ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বংশগত কারণ। যদি পরিবারের ঘনিষ্ঠ কারো অল্প বয়সে স্তন বা ওভারির ক্যান্সার হয়ে থাকে,তাহলে সেই পরিবারের অন্য সদস্যের ঝুঁকি বেড়ে যায়।এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। যেসব মহিলার মেনস্টুরেশন খুব অল্প বয়সে শুরু হয় এবং অনেক দেরিতে মেনোপজ হয়,যাদের সন্তান নেই, বা, যারা দীর্ঘদিন ধরে শুধু ইস্ট্রোজেনযুক্ত হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন তাদের মধ্যে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার এবং স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনও একটি বড় কারণ।পাশাপাশি,চিকিৎসার ক্ষেত্রে মূলত সার্জারি ও কেমোথেরাপি প্রধান ভূমিকা পালন করে। প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্তে আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও টিউমার মার্কার টেস্ট করা হয়ে থাকে। রোগটি কোন স্টেজে রয়েছে এবং ক্যান্সারটির উৎস কোথায়, তা নির্ধারণে এসব পরীক্ষা সহায়ক। প্রাথমিক অবস্থায় যদি শনাক্ত করা যায়, তাহলে সার্জারির মাধ্যমে তা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হতে পারে।তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সার্জারির পর কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয়। উন্নত পর্যায়ের কিছু রোগীর ক্ষেত্রে আগে কেমোথেরাপি দিয়ে শরীরকে তৈরি করে পরে সার্জারি করা হয়। এখন নতুন নতুন ওষুধ এবং থেরাপির মাধ্যমে অনেক রোগীই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকছেন।

    এই অবস্থায়,ওভারিয়ান ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ওভুলেশন কমানো এবং নিয়মিত চেকআপ এই ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি পাঁচ বছর নিয়মিত সেবনে ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।