
বন্দুকের বদলে বই-পেন নিয়ে স্কুলে ফিরেছেন মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলির ১০৬ জন মাওবাদী। মহারাষ্ট্র সরকারের উদ্যোগে নতুন করে জীবন শুরু করছেন এই ১০৬ জন। বনিতা জুরে ওরফে ঘিটসো। যৌবনের দুই দশক কাটিয়েছেন গঢ়চিরৌলির ঘন জঙ্গলে।
মাওবাদী কার্যকলাপে সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৯৩ সালের ২২ মার্চ। এখন বনিতা ৫৫। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। বনিতার মতো আরও ১০৫ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীর সঙ্গে স্কুলের সম্পর্ক ছিল না। কারও প্রথম শ্রেণি তো কারও দ্বিতীয় শ্রেণির পরেই চুকেছিল স্কুলের পাট। শৈশবে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র। বয়স তখন ওই ১০ বা ১১। বনিতাদের পড়ানো হয়েছিল আন্দোলনের পাঠ। কিন্তু খাতায়-কলমে তাঁরা সকলেই নিরক্ষর।আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা যাতে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন, সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ করছে মহারাষ্ট্র সরকার। প্রজেক্ট সঞ্জীবনী’র মাধ্যমে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করা হচ্ছে।
যাঁরা কোনও দিনও স্কুলের চৌকাঠ মাড়ানোর সুযোগ পাননি, তাঁদের ব্ল্যাকবোর্ড, চক-ডাস্টার, খাতা-পেনসিলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে সরকার। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সাক্ষরতা অভিযান শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তার পর আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা বসবেন পরীক্ষায়। পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা।







