ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে টানাপোড়েন

0
76
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

হঠাৎ করে কাতারের রাজধানী দোহায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। সেখানে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

এই হামলায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। বলা হয়েছে, মাত্র চার মাস আগে কাতারের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সে সময় দোহার ঝলমলে প্রাসাদে তাকে বিমুগ্ধ দেখা যায়। তখন উপসাগরীয় এই মিত্রের সঙ্গে এক বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেয় কাতার।মূলত এখান থেকেই ইরাকের প্রয়াত নেতা সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতে হামলা চালানো হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যে সামরিক তৎপরতা তা এই ঘাঁটিকে কেন্দ্র করেই। কিন্তু দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলার সেই সম্পর্ককে নাড়িয়ে দিয়েছে।এ ঘটনায় দৃশ্যত ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প।দোহা ও পশ্চিমী মিত্রদের কাছ থেকেও তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে চালানো এই হামলায় প্যালেস্টাইনি সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যালয়কে টার্গেট করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এ হামলার প্রত্যেক দিক নিয়েই অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। তবে মার্কিন কর্তারা ও বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষোভের পরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইসরায়েল নীতিতে বড় কোনও পরিবর্তন আসছে না। বরং হামলাটি ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কের শীতল হিসাব-নিকাশকেই স্পষ্ট করেছে।এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলার ঘটনাও অনুরূপ ছিল। তখন হাজারো যোদ্ধাকে ফাঁদ পাতা পেজারের মাধ্যমে জখম করেছিল তারা, অথচ তখনকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে কিছুই জানানো হয়নি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মাঝে মাঝে নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তার প্রশাসন হামাসকে দুর্বল করার ইসরায়েলি অভিযানের প্রতি জোরালো সমর্থন দিয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মূলত ইসরায়েলকেই নেতৃত্ব নিতে দিয়েছে।