
দীর্ঘসময় অফিসে ডেস্কে বসে কাজ করাকে এখন চিকিৎসকরা রেড ফ্ল্যাগ হিসেবে দেখছেন। কারণ এটি শুধু পিঠ বা ঘাড়ের ব্যথা নয়, হৃদরোগ, স্থূলতা, বিপাকজনিত সমস্যা এবং এমনকি গাট হেলথ অর্থাৎ অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে বসে থাকা অন্ত্রে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি করে, যা হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং শরীরজুড়ে ক্লান্তি ও প্রদাহ বাড়ায়।এখন প্রশ্ন হল কেন ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্ত্র? আসলে আমাদের পরিপাকতন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে নির্ভর করে অন্ত্রের নিয়মিত নড়াচড়ার,পেরিস্টালসিসর- ওপর।এটি খাবারকে ধাপে ধাপে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু যখন আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা নড়াচড়া না করে বসে থাকি, তখন অন্ত্রের গতি মন্থর হয়ে যায়। এর ফলে দেখা দেয়,গ্যাসের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি।ওদিকে অন্ত্র আসলে কেবল খাবার সরানোর একটি নল নয়।এটি একটি জটিল, স্নায়ু-নিয়ন্ত্রিত পেশি কাঠামো, যেখানে লক্ষ কোটি ব্যাকটেরিয়া হজমে সহায়তা করে।তবে শারীরিক কার্যকলাপ কমে গেলে এই পুরো ব্যবস্থাটি ব্যাহত হয়। বিশেষ করে যারা উচ্চ-ক্যালোরি ও চর্বিযুক্ত খাবার খান কিন্তু পর্যাপ্ত নড়াচড়া করেন না, তাদের অন্ত্রে সহজেই স্থবিরতা তৈরি হয়।এই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বিপাকক্রিয়া মন্থর করে, প্রদাহ বাড়ায় এবং শরীরকে অলস ও দুর্বল করে তোলে।এই অবস্থায়,অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে কী করবেন?গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের পরামর্শ হল,প্রতিদিন হালকা ওয়ার্কআউট করুন, অফিসেও ৪৫ মিনিটের বেশি একটানা বসে থাকবেন না।নিয়মিত বিরতি নিন। অফিসে হাঁটুন, স্ট্রেচিং করুন, কল রিসিভ করুন দাঁড়িয়ে থেকে।প্রচুর জল পান করুন। কারণ জলের অভাব অন্ত্রের গতি কমিয়ে দেয়, কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কারণও হয়ে ওঠে।সেইসঙ্গে,ফাইবার খান, তবে মনে রাখবেন শুধু ফাইবার নয়, শারীরিক নড়াচড়াও জরুরি।
যদি কাজের সময় পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি লাগে, বুঝে নিতে হবে অন্ত্র কাজ করছে না ঠিকভাবে। সঙ্গে সঙ্গে একটু হাঁটাহাঁটি বা স্ট্রেচিং করুন।এদিকে বর্তমান কর্মজীবনে ডেস্কে বসে কাজ করাই বাস্তবতা। তবে কাজের চাপে শরীরের প্রয়োজনীয় নড়াচড়াকে উপেক্ষা করলে তা ভবিষ্যতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।তাই কাজের মাঝে অল্প অল্প নড়াচড়া ও সচল অভ্যাসেই সুস্থ থাকবে আপনার অন্ত্র ও শরীর।








