
সোনা আর সম্পত্তির লোভেই পিসি শাশুড়িকে খুনের অভিযোগে মা-মেয়েকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। মধ্যমগ্রামের ট্রলিব্যাগ কাণ্ড তোলপাড় ফেলেছিল রাজ্যে। এবছর ফেব্রুয়ারিতে ট্রলি বন্দি দেহ কলকাতায় গঙ্গায় ফেলতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন মা আরতি ঘোষ এবং মেয়ে ফাল্গুনি ঘোষ।
এরপরেই তদন্তে পুলিশ জানতে পারে বিবাহ বিচ্ছেদের পর সুমিতা অসমে তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে থাকতেন। মৃতার ভাইপোর সঙ্গে বিয়ে হয় ফাল্গুনী ঘোষের। বিয়ের কয়েকমাস পর থেকেই ঝামেলা করে শ্বশুরবাড়ি থেকে মা অনিতার কাছে চলে আসেন ফাল্গুনি। মা ও মেয়ে মধ্যমগ্রামের দক্ষিণ বীরেশপল্লিতে ভাড়া থাকতেন। পিসি শাশুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ফাল্গুনি। ১১ ফেব্রুয়ারি সুমিতা অসম থেকে কলকাতায় বোন শিপ্রা ঘোষের বাড়িতে ছিলেন। ফাল্গুনির কথায় শিয়ালদহ থেকে মধ্যমগ্রামে গিয়েছিলেন সুমিতা। খুনের দুদিন আগে পিসি শাশুড়ির ভাঙা সংসার জোড়া লাগানোর কথা বলে তিনজনে সমুদ্রগড়ে তাঁর প্রাক্তন স্বামীর বাড়ি গিয়েছিল। ফিরে আসার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ঝামেলা বাধে। তখনই ভারী কিছু দিয়ে সুমিতার মাথায় মেড়ে খুন করেন ফাল্গুনি। এরপরে দেহ টুকরো করে ট্রলি ব্যাগে ফরে।
খুনের পর সুমিতার সোনার গয়না নিয়ে মধ্যমগ্রামের একটি দোকানে আড়াই লাখ টাকারও বেশি দামে বিক্রি করে। ৩২ হাজার টাকা ক্যাশ নিয়ে বাকি টাকায় নিজের পছন্দ মত গয়না কেনে ফাল্গুনি। এরপরেই দেহ নিয়ে গঙ্গায় ফেলার সময় ধরা পড়ে যান তাঁরা। এই ঘটনার ৮ মাসের মধ্যে পুরো বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সোমবার মামলার সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক।
