
দিনভর শরীরে যা যা দূষিত পদার্থ জমা হয়,কিডনির কাজ হল, তা শরীর থেকে সময়মতো বার করে দেওয়া। অর্থাৎ, কিডনির কাজ হল অনেকটা ছাঁকনির মতো।
সেই ছাঁকনিতে যাবতীয় টক্সিন আটকে গিয়ে বেরিয়ে যায় বলেই শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে। কিডনির কাজ কতটা জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝা যায় শরীরের এই অঙ্গটি নিজের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পরে।তখন চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটি, ব্যয়বহুল ডায়ালিসিসে ভরসা করা ছাড়া গতি থাকে না। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে চাইলে আগে থেকে সতর্ক হওয়া দরকার।আসলে ইদানীংকালে ক্রনিক কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। সেই তালিকায় কমবয়সিদেরই ভিড় বেশি।কিডনির ক্যানসারও চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। তাই কিডনি ভাল রাখতে কেবল খাওয়াদাওয়ায় বদল আনলেই চলবে না,কিছু ব্যায়ামও জরুরি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ,আইসিএমআর-এর সমীক্ষা জানাচ্ছে,আক্রান্তদের তালিকায় শিশুরাও রয়েছে। দেখা গিয়েছে, প্রতি বছর এ দেশে লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হন কিডনির রোগে। অন্যদিকে রোজের জীবনে কিছু অনিয়ম ও অসতর্কতার বশবর্তী হয়ে বেশ কিছু ভুল পদক্ষেপ এই অসুখের দিকে ঠেলে দেয়।এমনকিও এ-ও দেখা গিয়েছে, কমবয়সিদের মধ্যে কিডনিতে পাথর জমার প্রবণতাও বেশি।এই সব কিছু থেকে যদি কিডনিকে সুরক্ষা দিতে হয়, তা হলে কিছু বিশেষ ব্যায়াম রোজ অভ্যাস করা জরুরি।যেমন,বাটারফ্লাই পোজ়।মেঝেতে বসে দু’ পায়ের পাতা সামনাসামনি জুড়ে রাখতে হবে।এ বার দু’ হাত দিয়ে দু’ পায়ের পাতা ধরে হাঁটু ওঠা-নামা করতে হবে। ১০ সেট করে তিন বার করতে হবে এই ব্যায়াম। নিয়মিত অভ্যাসে পেলভিক অঞ্চলের ব্যায়াম হবে। এতে যেমন পায়ের পেশির জোর বাড়বে, তেমনই কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকিও কমবে।ওদিকে,পেলভিক টিল্ট,এই ব্যায়াম ছোটরাও করতে। প্রথমে চিত হয়ে শুতে হবে। এ বার কোমর মাটিতে রেখে দু’ পা মাটি থেকে তুলে কোমরের সঙ্গে সমকোণে রেখে থাকতে হবে দশ সেকেন্ড। হাত থাকবে দেহের দু’ পাশে। এ বার পর্যায়ক্রমে ডান পা ও বাঁ পা তুলে একই ভাবে থাকতে হবে।ক্রিসেন্ট মুন পোজ়ও করতে পারেন।সেক্ষেত্রে,প্রথমে ডান হাঁটু ভাঁজ করে শরীরকে মাটির কাছাকাছি নিয়ে আসতে হবে।ডান পায়ের পাতা থাকবে মাটিতে। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে বাঁ পা প্রসারিত করতে হবে পিছন দিকে।
শ্বাস নিতে নিতে দু’হাত মাথার উপরের দিকে তুলতে হবে। শরীরের উপরিভাগ যতটা সম্ভব হেলিয়ে দিতে হবে পিছনের দিকে।এই অবস্থানে থাকতে হবে ৩০ সেকেন্ড। তার পর অন্য পায়ে একই ভাবে করতে হবে আরও ৩০ সেকেন্ড। শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে হবে স্বাভাবিক ভাবেই। এই আসন করলে শরীরের নিম্নাংশের ব্যায়াম হবে, কিডনির স্বাস্থ্য ভাল থাকবে।








