ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে খাবারে ফাইবার

0
118
ছবি  সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

খাদ্যআঁশ বা ফাইবার এমন একটি খাদ্য উপাদান, যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে সক্রিয়ভাবে শক্তিশালী করে এবং গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস—অর্থাৎ অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে।

এর ফলে আমাদের মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা দীর্ঘদিন থাকে বলে জানিয়েছে নতুন গবেষণা।বলা হচ্ছে,মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্যতালিকায় ফাইবার বাড়ানো জরুরি। অন্যদিকে, ফাইবারের ঘাটতি অসুস্থতার একটি বড় কারণ হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে।তবুও বাস্তবতা হলো, আমরা অনেকেই পর্যাপ্ত ফাইবার খাই না।গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকায় প্রায় ৯৭% পুরুষ ও ৯০% মহিলা প্রস্তাবিত পরিমাণের চেয়ে কম ফাইবার গ্রহণ করেন। অধিকাংশই দৈনিক চাহিদার অর্ধেকেরও কম খান। ব্রিটেনেও ৯০%-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক এই ঘাটতিতে ভোগেন।বিশ্বের আরো বহু দেশেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশও এসব দেশ থেকে পিছিয়ে নয়।উচ্চ-আঁশযুক্ত খাদ্য মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে এখন মনে করা হচ্ছে। আঁশ হজমের সময় অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থেকে যে ফ্যাটি অ্যাসিড বিউটিরেট তৈরি হয়।আর এটি অন্ত্রের আস্তরণকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষতিকর উপাদান রক্তপ্রবাহে ঢুকে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।এই কারণেই গাট মাইক্রোবায়োটার উন্নতি জ্ঞানীয় ক্ষমতাও বাড়াতে পারে। যত বেশি আঁশ খাবেন, তত বেশি বিউটিরেট তৈরি হবে, আর ততই মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা উন্নত হবে। দেখা যায়, যাদের ফাইবার গ্রহণের পরিমাণ বেশি ছিল,তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম।বিপরীতে, যারা কম ফাইবার খেতেন, তাদের ঝুঁকি বেশি ছিল। একইভাবে, ৬০ বছরের বেশি বয়সিদের ওপর করা আরেকটি গবেষণায় উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাদ্য গ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা ভালো দেখা গেছে।যদিও এই ফলাফলগুলোতে দেখা যায়, সাম্প্রতিক এক র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল ট্রায়ালে যমজদের ওপর গবেষণায় ফাইবার ও জ্ঞানীয় ক্ষমতার মধ্যে কারণ-প্রভাব সম্পর্কও ইঙ্গিত করা হয়েছে। যারা প্রতিদিন প্রোবায়োটিক আঁশের সাপ্লিমেন্ট নিয়েছিলেন, তিন মাস পর তাদের মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা প্লাসেবো নেওয়াদের তুলনায় ভালো হয়। প্রোবায়োটিক হলো এমন সরল ফাইবার, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।মল নমুনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সাপ্লিমেন্ট অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে পরিবর্তন এনেছে এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়াম-এর মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে। বলা হচ্ছে বয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে খাদ্যকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা এখানে দেখা যাচ্ছে। মাইক্রোবায়োমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এটি পরিবর্তনযোগ্য এবং কিছু নির্দিষ্ট জীবাণু স্বাস্থ্যের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে যুক্ত।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, বিউটিরেট উৎপাদন বেশি হলে তা বিষণ্নতা কমাতে, ঘুমের উন্নতি করতে এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বিউটিরেট উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধির সঙ্গেও যুক্ত। পাশাপাশি মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।