বেঁকে যাচ্ছে পড়ুয়াদের মেরুদণ্ড

0
92
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল

বেঁকে গিয়েছিল মেরুদণ্ড। ধরতে পারেননি বাড়ির লোকও।সম্প্রতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে মেরুদণ্ডের সমস্যা ধরা পড়েছে কলকাতার একাধিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের। মেরুদণ্ডের এই সমস্যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলা হয় অ্যাডোলেসেন্ট আইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিস

বলা হয় সাধারণত ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে প্রায় ১ শতাংশকে প্রভাবিত করে এই অসুখ। মেরুদণ্ড ধীরে ধীরে বাঁকতে থাকলেও প্রাথমিক অবস্থায় তা ব্যথাহীন। ফলে টের পায় না আক্রান্ত শিশু অথবা তার বাড়ির লোক। বয়ঃসন্ধিকালে দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির সময় ধীরে ধীরে বাঁকতে থাকে মেরুদণ্ড। অভিভাবকদের চোখে বিষয়টি পড়তে দেরি হয়। যখন ধরা পড়ে তখন অনেকটাই বেঁকে গিয়েছে মেরুদণ্ড।তা ঠেকাতে গত একবছর ধরে এক রিসার্চ ফাউন্ডেশন কলকাতার বিভিন্ন স্কুলে হাজার হাজার পড়ুয়ার মেরুদণ্ডের স্ক্রিনিং করে। তালিকায় ছিল বাগবাজার মাল্টিপারপাস, রামজয়শীল শিশু পাঠশালা, সারদাচরণ আর্য ইনস্টিটিউশন, উল্টোডাঙা গভর্নমেন্ট স্পনসরড হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়, মুরারীপুকুর গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের মতো একাধিক স্কুল। প্রায় ৪ হাজার পড়ুয়ার স্ক্রিনিং করা হয়। তার মধ্যে ৫৪ জনের ক্ষেত্রে স্কোলিওসিসের সম্ভাবনা ধরা পড়েছে। অর্থাৎ ১০ শতাংশের বেশি। এদের মেরুদণ্ড ধীরে ধীরে বাঁকতে শুরু করেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যার মোকাবিলা করা যায়।এখন প্রশ্ন হলো,কীভাবে ধরা পড়ল পড়ুয়াদের মেরুদণ্ডের বক্রতা? প্রথমে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ মেরুদণ্ডের এক্স-রে করা হয়েছিল। এছাড়াও বৈজ্ঞানিকভাবে স্ক্রিনিং চালিয়ে তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেরুদণ্ড অতিরিক্ত বেঁকে গেলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

নিত্যসঙ্গী হতে পারে পিঠের ব্যথা।এই অবস্থায় স্কোলিওসিসকে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে আজীবন বিকৃতি এড়ানো যায়।যদি শিশুর দু’কাঁধ উঁচুনিচু মনে হয় তাহলে অভিভাবক অথবা স্কুলের শিক্ষকদের চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে বলেছেন ডাক্তাররা।