
শীতকালে ত্বকের, বিশেষ করে হাতের তালুর চামড়া ওঠার সমস্যা হয় অনেকেরই। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় এটা অনেকটা স্বাভাবিক হলেও গরমের সময়েও কেউ কেউ এই সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের সর্ববহিঃস্থ স্তরটি প্রায় প্রতি ২৮ দিন পর পর এতটা সূক্ষ্মভাবে উঠে যায় যে, তা আমরা বুঝতেই পারি না।
তবে চামড়া ওঠার হার অস্বাভাবিক হয়ে গেলে আমরা তা দেখতে পাই। এদিকে,গরমে রোদের তীব্রতা ও জলশূন্যতা ত্বককে প্রভাবিত করে। এসবের প্রভাবে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত ঘামের কারণে রোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলেও ত্বক অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। ফলে গ্রীষ্মেও চামড়া উঠে যাওয়ার হার বেড়ে যেতে পারে।এ ছাড়া এসির বাতাসও ত্বককে শুষ্ক করে তোলে। আবার শীতকাল পার হওয়ার পর অনেকেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা বন্ধ করে দেন। তখন ত্বকের শুষ্কতা ও চামড়া উঠে আসার সমস্যা শুরু হতেই পারে। ওদিকে বারবার সাবান ব্যবহার করলে, অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে, অতিরিক্ত পারফিউম বা বডি স্প্রে ব্যবহার করলে, নিয়মিত স্নানের জলেতে জীবাণুরোধী রাসায়নিক পদার্থ যোগ করা হলে বেশি বেশি চামড়া উঠতে পারে। কন্ট্যাক্ট ডারমাটাইটিস, একজিমা, সোরিয়াসিস, হাইপারহাইড্রোসিস আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও অনেক বেশি চামড়া ওঠার সমস্যা হয়ে থাকে। প্রতিকার হিসাবে গরমের সময় পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে। ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই যুক্ত খাবার খেতে হবে। সবুজ ও রঙ্গিন শাকসবজি, নানা রকম ফলমূল, বীজ- বাদাম ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
প্রতিবার হাত পরিষ্কার করার পর হ্যান্ড ক্রিম ও ময়েশ্চারাইজার অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। সেইসঙ্গে এমন ধরনের ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হবে, যা আঠালো বা চিটচিটে নয়। ভিটামিন ই’ ও সেরামাইডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে পারেন। ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং ঘাম হলে যত দ্রুত সম্ভব মুছে ফেলতে হবে। এগুলো মেনে চললেও যদি সমস্যা দূর না হয়, তাহলে তা অন্য ধরনের শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।








