
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোটখাটো কাটা বা আঘাতও কখনো কখনো বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ মানুষের তুলনায় তাদের শরীরে ক্ষত শুকাতে সময় বেশি লাগে, যা অবহেলা করলে মারাত্মক সংক্রমণ এমনকি জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তে অতিরিক্ত শর্করা, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও স্নায়ুর ক্ষতির কারণে এই সমস্যা আরো জটিল হয়ে ওঠে। তাই সচেতনতা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত চিকিৎসাই হতে পারে এ ধরনের ঝুঁকি এড়ানোর প্রধান উপায়। এদিকে ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার কারণ, রক্ত সঞ্চালনে বাধা। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ক্ষতস্থানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে পারে না, যা নতুন কোষ গঠনে বাধা দেয়। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ডায়াবেটিস শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শরীর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্নায়ুর ক্ষতি, নিউরোপ্যাথি, অনেক সময় ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে রোগী ব্যথার অনুভূতি হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে শরীরে কোথাও চোট লাগলেও রোগী তা বুঝতে পারেন না, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।
এই অবস্থায়,সুস্থ থাকতে ,প্রতিদিন নিয়মিত নিজের পা ও শরীর পরীক্ষা করুন। কোথাও কোনো কাটা বা লালচে ভাব আছে কি না তা খেয়াল রাখুন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও সময়মতো ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কোনো স্থানে চোট লাগলে বা কেটে গেলে দেরি না করে অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করুন। প্রয়োজনে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সতর্কতা হিসাবে বলা হয় ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কোনো ক্ষতকেই অবহেলা করা উচিত নয়। সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসাই পারে বড় ধরনের বিপদ এড়াতে।





