
মাঝ রাতে হঠাৎ পায়ের তীব্র যন্ত্রণায় ঘুম ভেঙে যাওয়া বা সকালে ঘুম থেকে উঠে পা সোজা করতে না পারা—এমন সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। সাধারণ ভাষায় একে পেশিতে টান ধরা বলা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, যখন আমাদের শরীরের কোনো ঐচ্ছিক পেশি সংকুচিত হওয়ার পর আর প্রসারিত হতে পারে না, তখনই এই যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এখন প্রশ্ন হল পেশিতে টান ধরে কেন?চিকিৎসকদের মতে, কেবল জল কম খাওয়া বা ডিহাইড্রেশনই এর একমাত্র কারণ নয়।আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো,খনিজের অভাব, শরীরে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় মিনারেলের ঘাটতি থাকলে পেশিতে টান ধরে।অক্সিজেনের অভাব, ঘুমের সময় শরীরের নিচের অংশে রক্ত চলাচল কিছুটা কমে যায়। ফলে পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না, যা মাঝ রাতে টান ধরার অন্যতম কারণ। তারপর,অতিরিক্ত পরিশ্রম, যারা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন বা অনেক বেশি হাঁটাহাঁটি করেন, তাদের এই সমস্যা বেশি হতে পারে। এছাড়া শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব থাকলেও পেশির কার্যক্ষমতা কমে যায়। এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় খনিজের ঘাটতির কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়। এখন প্রশ্ন হল,হঠাৎ টান ধরলে কী করবেন? উত্তর হলো,পেশিতে টান ধরলে সাময়িক আরাম পেতে আক্রান্ত স্থানে হালকা হাতে মালিশ করলে পেশি শিথিল হতে শুরু করে।বরফ বা আইস প্যাক ব্যবহার করলে ওই জায়গার রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং পেশি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে।স্থায়ী সমাধানের উপায় হিসাবে শরীরকে আর্দ্র রাখতে নিয়মিত প্রচুর জল খেতে হবে।পুষ্টিকর খাবার, ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন।সেইসঙ্গে প্রতিদিন নিয়ম করে হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করলে পেশি নমনীয় থাকে এবং টান ধরার ঝুঁকি কমে।সমস্যা বেশি হলে শরীরে ভিটামিন ও মিনারেলের মাত্রা পরীক্ষার জন্য ব্লাড টেস্ট করানো জরুরি।








