
রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল বেড়ে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়ে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। এই ধরনের কোলেস্টেরল বেশি হলে তা ধমনীর ভেতরে জমে গিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি করতে পারে।
ধীরে ধীরে এর ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলেস্টেরলের সমস্যা হঠাৎ তৈরি হয় না। দীর্ঘদিনের অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং শরীরচর্চার অভাবের কারণে ধীরে ধীরে এই ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুধু ওষুধ নয়, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাস বদলালেও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর কিছু অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন। প্রথমতঃ খাবারে দ্রবণীয় ফাইবার বা সলিউবল ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এই ধরনের ফাইবার অন্ত্রে জেলের মতো একটি স্তর তৈরি করে, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বের করে দিতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ গ্রাম দ্রবণীয় ফাইবার খেলেও এলডিএল কমতে পারে বলে। ওটস, বার্লি, ডাল, ছোলা ও রাজমার মতো খাবারে এই উপাদান পাওয়া যায়। তারপর, অস্বাস্থ্যকর চর্বির বদলে স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া উচিৎ। স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি খেলে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ে। এর পরিবর্তে অলিভ অয়েল, বাদাম, বিভিন্ন বীজ ও সামুদ্রিক মাছ খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। সেইসঙ্গে, খাদ্যতালিকায় উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বাড়াতে বলেন চিকিৎসকেরা। সয়াবিন, টফু, ডাল ও শস্যজাতীয় খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম এবং উপকারী ফাইবার বেশি থাকে। এসব খাবার শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে সাহায্য করে। তবে প্রাণিজ প্রোটিন পুরোপুরি বাদ না দিয়ে ধীরে ধীরে কমানো উচিত।পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শরীরে অতিরিক্ত মেদ থাকলে শুধু এলডিএল নয়, ট্রাইগ্লিসারও বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের মোট ওজনের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলেও কোলেস্টেরলের মাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া, নিয়মিত ব্যায়ামকে সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি বলা হচ্ছে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম করলে হৃদ্যন্ত্র ভালো থাকে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তচাপ কমাতেও সহায়তা করে।








