গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

31 C
Kolkata
31 C
Kolkata
More
    Home Sports হাইপারটেনশনে হঠাৎ মেজাজ তিরিক্ষি 

    হাইপারটেনশনে হঠাৎ মেজাজ তিরিক্ষি 

    0
    13
    ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে গেলে রক্তনালিকাগুলির উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, যা দীর্ঘ মেয়াদে ধমনীর স্থিতিস্থাপক ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এর ফলে রক্তনালিগুলি আড়ষ্ট, সরু ও দুর্বল হয়ে পড়ে, যা শরীরে প্রাণঘাতী জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। শরীরের ভিতরে এমনই ঘটনা ঘটতে থাকে।

    কিন্তু বাইরে? চিকিৎসকেরা বলছেন, কখনও কখনও উপসর্গ দেখা দিতে দেরি হয়। আর রক্তচাপের মাত্রা দীর্ঘ দিন ধরে বেশি থাকলে ধীরে ধীরে হার্টের মতো জরুরি অঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়ে। ধরে যায় হাইপারটেনশন-এর রোগ। তাই বাইরের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম লক্ষণ নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপসর্গ ধরা না দেওয়ার উদাহরণও প্রচুর রয়েছে, তাই ৪০ বছরের পর প্রতি মাসে অন্তত এক বার করে পরীক্ষা করাতেই হবে। তবে পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগা সদস্য থাকলে, আরও কয়েক বছর আগে থেকেই এই নিয়মটি শুরু করে দেওয়া উচিত। তবে যদি হঠাৎ শরীর খারাপ লাগে,ঘাম হওয়া, মেজাজ খারাপ হওয়া, রেগে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি, তা হলে তখনই প্রেশার মাপা উচিত। অন্য দিকে, উচ্চ রক্তচাপ অজান্তেই শরীরে নানা প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেশার মাপার আগে থেকেই ছোট ছোট লক্ষণ নজরে রাখা উচিত।যেমন,সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘন ঘন মাথাব্যথা হয়? কিংবা মাথার পিছনে ব্যথা হয়? কখনও ক্লান্তি, কখনও পেশির ব্যথা বলে এড়িয়ে যান? কিন্তু অনেক সময়ে উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এই লক্ষণগুলি। বিশেষ করে মাথার পিছনের দিকে চাপ বা ভারী ভাব অনুভূত হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। যদিও সব মাথা ব্যথার কারণ উচ্চ রক্তচাপ নয়। কিন্তু সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়া দরকার।তারপর, অতিরিক্ত ক্লান্তি,হার্টের পেশিগুলি আড়ষ্ট হয়ে গেলে রোগীর শরীর ক্লান্তিতে ধুঁকতে পারে। যে কাজে অন্য দিন ক্লান্ত হন না, হঠাৎ সেটি করতে গিয়েও যদি গায়ে বল না পাওয়া যায়, তা হলে সতর্ক হতে হবে। আলস্য নয়, বরং হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ এটি। তাই চটজলদি প্রেশার মেপে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।এদিকে, ঝাপসা দৃষ্টি,দীর্ঘ দিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ঝাপসা দেখা, চোখে চাপ লাগা বা হঠাৎ দৃষ্টির সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সেই বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।ঘাড়ের স্পন্দন বৃদ্ধি,হঠাৎ ঘাড়ের কাছে অস্বস্তি হতে পারে। মনে হতে পারে, ঘাড়ের কাছে স্পন্দন যেন আচমকা বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে গলার দুই পাশে অবস্থিত ক্যারোটিড ধমনীর স্পন্দনশীল প্রবাহের গতি বেড়ে গেলেও বুঝতে হবে, রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছে। আর এই লক্ষণ হার্টের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়।আবার,সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে অস্বাভাবিক হাঁফ ধরা, বুক ধড়ফড় করা বা বুকের মধ্যে চাপ লাগা,এই উপসর্গগুলিও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ দীর্ঘ দিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ হৃদ্‌যন্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে। তখন এই ধরনের কাজে হার্টে চাপ পড়ে এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।ওদিকে,রক্তচাপের মাত্রা যদি খুবই বেড়ে যায়, তা হলে কখনও কখনও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। বার বার এমন হলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, কিন্তু সব ক্ষেত্রেই সতর্ক হওয়া উচিত।চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ দিন মানসিক চাপ, কম ঘুম এবং উদ্বেগও উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে জড়িত। অনেকেই ঘুমের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ বা অতিরিক্ত চাপকে মানসিক সমস্যা বা ক্লান্তি বলে উপেক্ষা করে যান। অথচ ভিতরে ভিতরে রক্তচাপ বাড়তে থাকলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    রক্তচাপ বেড়ে গেলে অ্যাড্রিনালিন ও নন-অ্যাড্রিনালিন হরমোনের সক্রিয়তাও বেড়ে যায় বলে এই লক্ষণ দেখা যায়। অ্যাড্রিনালিন হৃৎস্পন্দন বাড়ায় এবং নন-অ্যাড্রিনালিন রক্তনালি ছোট করে, ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।