
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের আগামী ঐতিহাসিক মহাকাব্যিক সিনেমা দ্য ওডিসি-র কাস্টিং বা অভিনেতা নির্বাচন নিয়ে নিজের আক্রমণাত্মক অবস্থান বজায় রেখেছেন প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। তার দাবি, অস্কারের জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে অ্যাকাডেমির বেঁধে দেওয়া বৈচিত্র্য-সংক্রান্ত নীতি বা গাইডলাইনের কারণেই নোলান এই ঐতিহাসিক সিনেমার জন্য কৃষ্ণাঙ্গ ও বৈচিত্র্যময় অভিনেতা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায়,এক্স-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, সেরা সিনেমা বানানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে অস্কারের যোগ্যতার জন্য ডিইআই ,বৈচিত্র্য, ইক্যুইটি ও অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত মিথ্যা নীতি সুনির্দিষ্টভাবে কে যোগ করেছে? এরপর এ বিষয়ে সুর আরও চড়িয়ে ইলন মাস্ক লিখেছেন, ক্রিস্টোফার নোলান অস্কারের জন্য যোগ্য হতেই ওডিসি-র মূল ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন। তবে মাস্কের এই সমালোচনা একটি বড় সত্যকে এড়িয়ে গেছে,কারণ নোলানের অস্কারজয়ী পূর্ববর্তী চলচ্চিত্র,ওপেনহাইমার-এর প্রধান কাস্টরা শ্বেতাঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য প্রযুক্তিগত ও নেপথ্যের যোগ্যতার কারণে সেটি অস্কারের জন্য সম্পূর্ণ বৈধ ছিল। মূলত এর আগে নোলান যখন ঘোষণা করেন যে অস্কারজয়ী কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিটা নিয়ং’ও এই সিনেমায় ট্রয়ের হেলেন চরিত্রে অভিনয় করবেন, তখন থেকেই মাস্কের এই সমালোচনার ঝড় শুরু হয়।তিনি রক্ষণশীল ধারাভাষ্যকার ম্যাট ওয়ালশের একটি বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে লেখা ছিল, পৃথিবীর কেউ মনে করে না যে লুপিটা নিয়ং’ও,বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী। কিন্তু ক্রিস্টোফার নোলান জানেন যে কোনো শ্বেতাঙ্গ নারীকে ,সবচেয়ে সুন্দরী,হেলেন চরিত্রে রূপদান করলে তাকে বর্ণবাদী বলা হবে। নোলান প্রযুক্তিগতভাবে প্রতিভাবান হলেও আসলে একজন কাপুরুষ। এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে মাস্ক মন্তব্য করেন সত্য, এবং দাবি করেন যে কেবল পুরস্কার জেতার উদ্দেশ্যেই এই কাস্টিং সাজানো হয়েছে।
এ ছাড়া এই সিনেমায় অভিনেতা এলিয়ট পেজের কাস্টিং নিয়েও আপত্তি তুলে তার পুরুষত্বকে ব্যঙ্গ করা বেশ কিছু পোস্ট রিটুইট করেন মাস্ক।উল্লেখ্য, অস্কারের সেরা চলচ্চিত্রের,বেস্ট পিকচার যোগ্যতার জন্য ২০২০ সালে অ্যাকাডেমি এই প্রতিনিধিত্ব ও অন্তর্ভুক্তি মানদণ্ড ঘোষণা করে, যা ২০২৪ সাল থেকে পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে।





