গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

31 C
Kolkata
31 C
Kolkata
More
    Home Lifestyle এত রাগ কেন হয়?

    এত রাগ কেন হয়?

    0
    13
    ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    রাগ মানুষের স্বাভাবিক আবেগ। কিন্তু সেই রাগ যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন তা হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর।কারণ মুহূর্তের রাগ অনেক সময় আজীবনের অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    ক্ষোভ জমিয়ে রাখাও ক্ষতিকর।বরং প্রয়োজন সচেতনভাবে রাগ সামলানোর কৌশল শেখা।বিশেষজ্ঞদের মতে, রাগ এমন এক আবেগ, যা মানুষকে অনেক সময় নিজের কাছেই অসহায় করে তোলে।মনে হয় যেন ভেতরে জমে থাকা এক অদৃশ্য আগুন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই রাগকে অস্বীকার নয়, বরং বুঝে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।মনোবিজ্ঞানী চার্লস স্পিলবার্গ রাগকে ব্যাখ্যা করেছেন এমন এক আবেগ হিসেবে, যার তীব্রতা সামান্য বিরক্তি থেকে শুরু করে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও ক্রোধ পর্যন্ত যেতে পারে। আর এই আবেগ শুধু মানসিক নয়, শারীরিক পরিবর্তনও ঘটায়।যেমন রাগ হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বাড়ে, শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও নরঅ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ শরীর তখন লড়াই বা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।এ কারণেই রাগের সময় মানুষ অনেক বেশি উত্তেজিত, অস্থির কিংবা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।আবার,রাগের উৎসও বিচিত্র।কারো ক্ষেত্রে তা হতে পারে অফিসের চাপ, কারো ক্ষেত্রে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আবার কারো জন্য অতীতের তিক্ত স্মৃতি। যানজট, বাতিল হওয়া ফ্লাইট, অসম্মানজনক আচরণ কিংবা দীর্ঘদিনের হতাশাও রাগের জন্ম দিতে পারে। রাগকে সবসময় নেতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও এটি মানুষের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক আবেগ। বিপদ বা হুমকির মুখে রাগ মানুষকে আত্মরক্ষার শক্তি দেয়। তাই একেবারে রাগহীন মানুষ হওয়া সম্ভবও নয়, প্রয়োজনীয়ও নয়।কিন্তু,সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন রাগ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে।কারণ বাস্তবতা হলো,প্রতিটি বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে চিৎকার করা বা আক্রমণাত্মক আচরণ করা সম্ভব নয়। সমাজ, আইন এবং সম্পর্ক—সব কিছুরই কিছু সীমা আছে। তাই মানুষকে শিখতে হয় কিভাবে রাগকে সামলাতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ সাধারণত তিনভাবে রাগ মোকাবিলা করে,কাশ, দমন এবং প্রশমিত করা।অন্যদিকে,রাগ প্রকাশের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায় হলো দৃঢ় কিন্তু ভদ্রভাবে নিজের অনুভূতি জানানো। আক্রমণাত্মক আচরণ নয়, বরং পরিষ্কারভাবে নিজের প্রয়োজন ও কষ্টের কথা বলা।এই দৃঢ় হওয়া মানে কাউকে ভয় দেখানো নয়, বরং নিজের ও অন্যের প্রতি সম্মান রেখে কথা বলা।উল্টোদিকে,অনেকে রাগ চেপে রাখেন। বাইরে কিছু প্রকাশ করেন না, কিন্তু ভেতরে ক্ষোভ জমতে থাকে। এই জমে থাকা রাগ একসময় উচ্চ রক্তচাপ, হতাশা বা বিষণ্নতার কারণ হতে পারে।কখনো কখনো এটি ,প্যাসিভ-অ্যাগ্রেসিভ আচরণেও রূপ নেয়। অর্থাৎ সরাসরি কিছু না বলে আড়ালে কটাক্ষ করা, তীব্র সমালোচনা করা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে দূরত্ব তৈরি করা।তবে,সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো নিজেকে ভেতর থেকে শান্ত করা। শুধু মুখের আচরণ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিজের চিন্তা, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং শারীরিক প্রতিক্রিয়াকেও শান্ত করা।রাগ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ জেরি ডিফেন্সারের মতে, কিছু মানুষ জন্মগতভাবেই বেশি স্পর্শকাতর ও রাগপ্রবণ। তারা অন্যদের তুলনায় দ্রুত ও তীব্রভাবে রেগে যায়।তবে শুধু জিনগত কারণ নয়,পারিবারিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশৃঙ্খল পরিবার, আবেগিক যোগাযোগে দুর্বল কিংবা সবসময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা মানুষদের মধ্যে রাগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তিনি বলেছেন, আরো একটি বিষয় হলো—অনেক মানুষ হতাশা সহ্য করতে পারেন না। তারা মনে করেছেন, তাদের জীবনে কোনো বাধা ও অসুবিধা থাকা যাবে না। ফলে সামান্য বিরক্তিও তাদের কাছে অসহনীয় মনে হয়।