
সার্চ হিস্ট্রি থেকে শুরু করে চ্যাটজিপিটি’র মতো প্ল্যাটফর্মে মানুষের দেওয়া দৈনন্দিন তথ্যই এখন বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির আয়ের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ব্রিটেনের প্রতি ইন্টারনেট ইউজারের জীবনকালের তথ্য ব্যবহার করে বড় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আয় করে।দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী কিছু কোম্পানি ইন্টারনেট সচল রাখতে এবং নিজেদের ব্যবসা বাড়াতে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও তা থেকে অর্থ আয় করছে।
এ গবেষণায় খতিয়ে দেখা হয়েছে মানুষ কীভাবে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে তাদের ডিজিটাল ছাপ রেখে যাচ্ছে।যার মধ্যে রয়েছে গুগলে কোনো কিছু খোঁজা, ক্লিক করা, লোকেশন বা অবস্থানের তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে অনলাইনে কেনাকাটা, মেসেজ আদান-প্রদান, ছবি আপলোড ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।সাধারণত, এসব তথ্য এত দিন কুকি-এর মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হত এবং বিভিন্ন কোম্পানি এগুলো ব্যবহার করে ইউজারের পছন্দ অনুসারে বিজ্ঞাপন দেখাত।তবে গবেষণা বলছে,বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির মাধ্যমে মানুষের ডেটা সংগ্রহের পরিধি আরও বেড়েছে। এখন ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে আয়ের নতুন নতুন উপায় তৈরি করা হচ্ছে, যার অন্যতম বড় উদাহরণ এআই সিস্টেম তৈরি করা এবং এসব মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে, ব্রিটেন ও ইউরোপের প্রতি ইন্টারনেট ইউজার তাদের পুরো ডিজিটাল জীবনকালে মুদ্রাস্ফীতি-সমন্বিত বাণিজ্যিক মূল্যে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অবদান রাখেন।তবে এর উদ্দেশ্য মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট অংকের অর্থ দেওয়া বা বোঝানো নয়, বরং মানুষের ডেটা বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইন্টারনেটের বড় পরিধি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে সেটাই তুলে ধরা।
রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে, অ্যামাজন, গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট, অ্যানথ্রপিক, মাইক্রোসফট ও মেটা’র মতো বড় প্রযুক্তি জায়ান্টরা প্রতি বছর একজন ইন্টারনেট ইউজারের তথ্য থেকেই এক হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আয় করে।এর মানে, অন্যান্য বিকাশমান বিভিন্ন এআই কোম্পানি যখন মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করছে তখন তারা আরও বেশি কাজ এবং সম্ভবত এর চেয়েও বেশি আয় করছে।






