
কলকাতা, ঘড়ির কাঁটায় ভোর সাড়ে পাঁচটা। ধূসররঙা বড় গাড়িটা এসে দাঁড়ালো এরিয়ান ক্লাবের একটু দূরে। গাড়িতে বড়পর্দার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রাজকুমার রাও।
কলকাতায় তাঁর দাদা ছবির শুটিংয়ের পয়লা দিন।ঢিলছোড়া দূরত্বে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। ওই রাস্তা জুড়ে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের জীবনীছবির শুটিং হবে। দিন দুই আগে সৌরভের ছেলেবেলার কিছু অংশ ক্যামেরাবন্দি হয়েছে বেহালা চৌরাস্তায়, দাদা’র বাড়িতে। সেখানকার শুটে ছিলেন অপরাজিতা আঢ্য। তিনি পর্দায় সৌরভের মা নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়।ঘড়ির কাঁটা সাতটার ঘর ছুঁতেই মেকআপ ভ্যান থেকে বেরিয়ে এসেছেন রাজকুমার রাও। স্লেটরঙা টি শার্ট, কালো শর্টস। সামান্য মেদের প্রলেপ শরীরে। ছোট করে ছাঁঁটা চুল। ত্বক বাঁচাতে দুই গালে সাদা,সান গার্ড রং। দাদা রাজকুমার, এরিয়ান ক্লাবের মাঠের ভিতরে গা ঘামাচ্ছেন। তাঁকে দেখতে উৎসাহী একদল কিশোর ক্রিকেটার। দাদা’কে দেখে কচি গলায় ,সৌরভ, সৌরভ ধ্বনি। এক উৎসাহী খুদে ফ্যান পর্দার মহারাজ’কে দেখে জামা খুলে বনবন করে মাথার উপর ঘোরাচ্ছে। হাসিমুখে তাঁদের দিকে হাত নাড়লেন রাজকুমার। এটাই ছিল সকালের শুটিংয়ের দৃশ্য।দৃশ্যতেই স্পষ্ট, দাদা তত দিনে লর্ডসের মাঠে খালি গায়ে জামা ঘুরিয়ে বিশ্বখ্যাত। বিদেশ সফর সেরে নিজের শহরে ফিরেছেন। তাঁকে দেখতে তাই এত উন্মাদনা হবু ক্রিকেটারদের মধ্যে।মাঠে নায়কের শট ক্যামেরাবন্দি করলেন ছবির পরিচালক বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানী স্বয়ং। তিনিও নায়কের মতোই স্লেটরঙা টিশার্টে শোভিত। বাড়তি সংযোজন, মাথায় সাদা টুপি।দেখা গেছে,পাঁচ থেকে ছ’বার রাজকুমারের গা ঘামানোর দৃশ্য ক্যামেরায় ধরলেন। পরিচালক কাট বলতেই মাঠে উবু হয়ে বসে জিরিয়ে নিলেন রাজকুমার। জানা গেল, শুটিং শুরুর অনেক আগে থেকেই মাঠে নায়ক। একপ্রস্ত শুট শেষ হতে সাময়িক বিরতি। মাঝমাঠে ছাতার নীচে চেয়ারে শরীর ছেড়ে দিলেন পর্দার দাদা। এর পর অন্য দৃশ্য তোলা হবে। মাঠ জুড়ে ক্রিকেট খেলার আয়োজন। সেই মতো সাজিয়ে নেওয়া হচ্ছে সব কিছু। সাদা পোশাক, সাদা টুপি পরা একদল খেলোয়াড় অভিনেতা ঘুরে বেড়াচ্ছেন ইতস্তত। কিছু জন গোল হয়ে সবুজ ঘাসের উপরে বসে পড়েছেন। আড্ডা জমেছে সেখানে।আধ ঘণ্টার মধ্যে মাঠে ফের পর্দার দাদা। এ বার সাদা টিশার্ট গায়ে।
ফের কিছু গা ঘামানোর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হল। শট ,ওকে হওয়ার পর নায়কের দৃষ্টি গেল দূরের মাঠের দিকে। সেখানে কিশোরদের বল পায়ে দাপাদাপি করতে দেখে আনমনা তিনি। পরিচালক, টিম দাদা ফের পরের দৃশ্যগ্রহণের তোড়জোড়ে ব্যস্ত।








