হিটস্ট্রোকের আগে শরীর সংকেত দেয় 

0
22
ছবি সৌজন্যে :  রিপ্রেসেন্টেশনাল

এখন গ্রীষ্মের দুপুর গড়াতেই আগুনের মতো হাওয়ায় পুড়িয়ে দিচ্ছে ত্বক।এই অতিরিক্ত গরম শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

বলা হয়,শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বেশি।এমন প্রচণ্ড গরমে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে দেখা দিতে পারে হিট অ্যাক্সেশন বা, তাপজনিত ক্লান্তি। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি রূপ নিতে পারে,হিটস্ট্রোকে।পাশাপাশি,অতিরিক্ত গরমে শরীর যখন নিজেকে ঠাণ্ডা রাখতে হিমশিম খায়, তখন হিট অ্যাক্সেশন দেখা দেয়।এটি মূলত শরীরের একটি সতর্কতাসংকেত, যা জানিয়ে দেয় যে দ্রুত ঠাণ্ডা পরিবেশে যেতে হবে।এদিকে,হিট অ্যাক্সেশন যে কারো হতে পারে। এমনকি সম্পূর্ণ সুস্থ ও কর্মক্ষম মানুষেরও হতে পারে।এটি কয়েক মিনিটের মধ্যেও হতে পারে, আবার ধীরে ধীরে কয়েক ঘণ্টা ধরে তৈরি হতে পারে।এ অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত ঘামতে পারেন, প্রচণ্ড গরম অনুভব করতে পারেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এ ছাড়া মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, বমি বমি ভাব, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণাও দেখা দিতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো কি লক্ষণ দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।উত্তর হলো,শরীর খুব গরম লাগলেও ঘাম না হলে,শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে,দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে,বিভ্রান্ত আচরণ করতে থাকলে,খিঁচুনি হলে,অজ্ঞান হয়ে গেলে,কোনো সাড়া না দিলে।ওদিকে,হিট অ্যাক্সেশন সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গিয়ে হিটস্ট্রোক হতে পারে। এর অর্থ হলো শরীর আর তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে। তবে হিট অ্যাক্সেশন সাধারণত গুরুতর নয়, যদি দ্রুত শরীর ঠাণ্ডা করা যায়। হিটস্ট্রোক একটি জরুরি অবস্থা। ফলে অবিলম্বে এর চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।হিটস্ট্রোক যেহেতু একটি জরুরি অবস্থা। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ চিকিৎসায় দেরি হলেই মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ফলে এর লক্ষণগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন।অন্যদিকে,হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে,ঠাণ্ডা জায়গায় বিশ্রাম নেওয়ার পরও সুস্থ না হওয়া, শরীর খুব গরম লাগলেও ঘাম না হওয়া, শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, বিভ্রান্ত আচরণ, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা কোনো সাড়া না দেওয়া।