
গ্রীষ্মকাল এলেই ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্ন নিয়েও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়। তীব্র গরমে মাথার ত্বকে ঘাম জমে, ধুলোবালি সহজে আটকে যায় এবং চুল দ্রুত ময়লা হয়ে পড়ে।
অনেকের ক্ষেত্রে মাথার ত্বক তেলতেলে হয়ে যায়, আবার কারো কারো চুলকানি বা অস্বস্তিও দেখা দেয়।এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাবেন, চুল পরিষ্কার রাখতে কি প্রতিদিন শ্যাম্পু করা উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রশ্নের উত্তর সবার জন্য এক নয়। কারণ চুল ধোয়ার সঠিক সময়সূচি নির্ভর করে মাথার ত্বকের প্রকৃতি, চুলের ধরন,দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং আবহাওয়ার প্রভাবের ওপর। গরমে ঘাম বেশি হলেও প্রতিদিন শ্যাম্পু করা সব সময় প্রয়োজনীয় নয়।বরং অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারে চুলের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে যেতে পারে।এখন প্রশ্ন হলো,কেন প্রতিদিন শ্যাম্পু করা সব সময় ভালো নয়?মাথার ত্বক থেকে স্বাভাবিকভাবে কিছু প্রাকৃতিক তেল নিঃসৃত হয়, যা চুলকে আর্দ্র ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে। ঘন ঘন শ্যাম্পু করলে এই প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে যেতে পারে। ফলে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।এমনকি চুল ভাঙা বা ডগা ফেটে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই চুল ধোয়ার ক্ষেত্রে নিজের চুল ও স্ক্যাল্পের প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।আসলে,যাদের মাথার ত্বকে খুব দ্রুত তেল জমে, তাদের ক্ষেত্রে গরমের সময়ে তুলনামূলক বেশি বার চুল ধোয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা প্রচুর ঘামেন, তাদের স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা জরুরি। এ ধরনের ক্ষেত্রে সপ্তাহে প্রায় ৪ থেকে ৬ বার চুল ধোয়া যেতে পারে।তবে প্রতিবার শক্তিশালী বা অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভালো। মাইল্ড বা কোমল শ্যাম্পু ব্যবহার করলে মাথার ত্বক পরিষ্কার থাকবে,আবার অতিরিক্ত শুষ্কতাও তৈরি হবে না। যাদের মাথার ত্বক না খুব বেশি তৈলাক্ত, না খুব বেশি শুষ্ক, তাদের জন্য সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার চুল ধোয়া সাধারণত যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এতে মাথার ত্বকে জমে থাকা ঘাম, ময়লা ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার হয়ে যায়,পাশাপাশি চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও বজায় থাকে।অযথা বেশি শ্যাম্পু করার প্রয়োজন হয় না।এবার প্রশ্ন হলো,শুষ্ক চুল ও স্ক্যাল্পের ক্ষেত্রে কী করবেন? উত্তর হল,যাদের চুল এবং মাথার ত্বক স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক, তাদের জন্য ঘন ঘন শ্যাম্পু করা উপকারী নয়। কারণ এতে চুল আরো বেশি শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং রুক্ষতা বাড়তে পারে।এ ধরনের চুলের জন্য সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার শ্যাম্পু করাই সাধারণত যথেষ্ট। পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।অন্যদিকে,কোঁকড়ানো চুলে স্বাভাবিকভাবেই আর্দ্রতা ধরে রাখা তুলনামূলক কঠিন।এ কারণে বারবার শ্যাম্পু করলে চুল দ্রুত শুষ্ক ও ফ্রিজি হয়ে যেতে পারে। সাধারণত সপ্তাহে ১ থেকে ৩ বার চুল ধোয়া যথেষ্ট হলেও, এটি ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। চুলের অবস্থা বুঝে রুটিন ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।অন্যদিকে গরমে মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে যে অভ্যাসগুলো জরুরি তারমধ্যে শুধু চুল ধুলেই হবে না, গরমকালে কিছু অতিরিক্ত যত্নও প্রয়োজন। এতে মাথার ত্বক পরিষ্কার ও আরামদায়ক থাকে।সেইসঙ্গে খুব গরম জল এড়িয়ে চলুন।অতিরিক্ত গরম জল চুল ও স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করতে পারে। তাই কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল ব্যবহার করা ভালো। আর মাইল্ড শ্যাম্পু বেছে নিন।প্রতিদিন বা ঘন ঘন চুল ধোয়ার প্রয়োজন হলে কোমল ও সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।কন্ডিশনার ব্যবহার করুন,চুল ধোয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল নরম থাকে এবং শুষ্কতা কমে।ঘামে ভেজা চুল বেশিক্ষণ বেঁধে রাখবেন না,ভেজা বা ঘামে স্যাঁতসেঁতে চুল দীর্ঘ সময় আটকে রাখলে মাথার ত্বকে অস্বস্তি, দুর্গন্ধ বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।পাশাপাশি,চুলের পাশাপাশি ব্যবহৃত চিরুনিও নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত। এতে ধুলো-ময়লা ও জীবাণু জমার সম্ভাবনা কমে।সেইসঙ্গে,প্রখর রোদে বের হলে ছাতা, টুপি বা ওড়না ব্যবহার করে মাথা ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন। এতে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চুল ও মাথার ত্বক কিছুটা সুরক্ষিত থাকবে।গরমে চুলের যত্নের ক্ষেত্রে প্রতিদিন শ্যাম্পু বা, একেবারেই কম শ্যাম্পু- এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।
নিজের মাথার ত্বকের ধরন, চুলের গঠন এবং দৈনন্দিন অভ্যাস বিবেচনা করে চুল ধোয়ার রুটিন ঠিক করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক যত্ন নিলে গরমের মধ্যেও চুল থাকবে পরিষ্কার, সতেজ এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
