
তারাতলা বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০ জনের চিকিৎসা চলছে। এরমধ্যে ১৮ জন আউট অফ ডেঞ্জার। তবে ২ জনের অবস্থা গুরুতর। এসএসকেএম হাসপাতালে আহতদের দেখে এসে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন মূলত বিহারের মুঙ্গের সহ আশপাশের এলাকা থেকে লেবারদেরকে আনা হয়েছিল। তদারকিতে থাকছেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব। হাসপাতালের বিষয়টি দেখভাল করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন সেনা, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, দমকল, পুলিশ, পুরসভার কর্মীদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজের জন্য মৃত্যু অনেকটাই আটকানো গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ভূমিকম্পের মত দুলছিল শেডটি। তারপরেই বিপক শব্দে হুড়মড়িয়ে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ গোডাউনটি।
তারাতলায় বিপর্যয়ের পর থেকেই মনিটরিং করছিলেন, এরপর বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্ধারকাজ যাতে কোনওভাবে ব্যাঘাতপ্রাপ্ত না হয়। রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা। আহতদের যাতে দ্রুত উদ্ধার করে গ্রিন করিডরের মাধ্যমে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়। সেই সব নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খাঁ, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, দমকল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সেরে নেন মুখ্যমন্ত্রী। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থল ছাড়েন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত তিনি যা রিপোর্ট পেয়েছেন তাতে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের একজনের নাম কৃষ্ণ চৌধুরি, রোহিত চৌধুরি। আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এখনও অন্তত ১৫ আটকে রয়েছেন। দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করার জন্য সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, দমকল সেই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে দুপুরে এই জোনের আর্মি এবং এনডিআরএফের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক এবং মুখ্যসচিবের সঙ্গে কথা হয়। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেনাকে কল করা হবে। প্রসেস কমপ্লিট হওয়ার আগেই সেনা এবং এনডিআরএফ পৌঁছে যায়।
স্বাস্থ্য দফতরে প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং স্বাস্থ্য সচিবের নেতৃত্বে টিম কাজ করছে। সিএমওএইচ দক্ষিণ ২৪ পরগনার নেতৃত্বে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স প্রতিনিয়ত কাজ করছে, গ্রিন করিডর করে হাসপাতালে আহতদের পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। একসঙ্গে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যে কাজ দরকার সেটাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারাতলায় উদ্ধারকাজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
