এক ডজন তদন্ত, তবুও প্রেসিডেন্ট দীনা বলুয়ার্তে

0
95
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

ক্ষমতায় আসার ২৯ মাস আগে থেকেই প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন পেরুর প্রেসিডেন্ট দীনা বলুয়ার্তে।আর এই আন্দোলন চলেছে তার পুরো মেয়াদজুড়েই। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা কেলেঙ্কারি, তদন্ত, বিতর্ক এবং গ্যাং সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি।বলা হচ্ছে,৬৩ বছর বয়সী বলুয়ার্তের বিরুদ্ধে বর্তমানে অন্তত এক ডজন তদন্ত চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল গয়না ও রোলেক্স ঘড়ির মতো উপহার ঘোষণায় ব্যর্থতার অভিযোগ।

এ ঘটনা,রোলেক্সগেট নামে পরিচিতি পেয়েছে। এ ছাড়া তার নাকের সার্জারির জন্য ঘোষণা না করে দু’ সপ্তাহের অনুপস্থিতি নিয়ে চলছে তদন্ত। যদিও বলুয়ার্তে জোর দিয়ে বলেছেন, এটি ছিল চিকিৎসাজনিত, সৌন্দর্যবর্ধক নয়।পাশাপাশি পুলিশের এক দমন অভিযানে ৫০ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু নিয়েও তদন্ত চলছে, যাতে তিনিও অভিযুক্ত।এদিকে এই অশান্ত প্রেক্ষাপটে বলুয়ার্তের কখনোই বেশি জনপ্রিয়তা ছিল না, তবে মে মাসে তা নেমেছে একেবারে শূন্যের কোঠায়।জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান ইপসোস জানিয়েছে, বর্তমানে তার গ্রহণযোগ্যতা মাত্র ২ শতাংশ ,ক্ষমতা গ্রহণের সময় যা ছিল ২১ শতাংশ। ইপসোস পেরুর সভাপতি আলফ্রেদো তোরেস বলেছেন, সম্ভবত এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানবিরোধী জনঅসন্তোষের রেকর্ড। এটি ইপসোসের পরিচালিত ৯০টি দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন স্কোর।তা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক পেরুভিয়ান রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে বলুয়ার্তে শুধু টিকে গেছেন বলেই নয় ,বরং একধরনের প্রবীণ নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। উল্লেখ্য গত আট বছরে পেরুতে রাষ্ট্রপতি বদল হয়েছে ছ’বার।

বলুয়ার্তে যদি আগামী বছর মেয়াদ শেষ করেন, তাহলে তিনিই হবেন এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্ট।অন্যদিকে,সংসদে নিজের কোনো দল না থাকলেও বলুয়ার্তে টিকে আছেন ডানপন্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সমর্থনে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটারদের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বলুয়ার্তেকে এখনও ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাহায্য করছে।