
প্রায় সব খাবারেই লবণের প্রয়োজন পড়ে। লবণ ছাড়া কোনো খাবারই মুখে তোলা যায় না,খাবারের স্বাদ বদলে দেয় এই লবণ।
এদিকে আমাদের শরীরের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান সোডিয়াম রয়েছে এই লবণে। সোডিয়ামের ঘাটতি হলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।তাই খাবারের সঙ্গে লবণ খাওয়া প্রয়োজন।তবে লবণ খাওয়ার নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ২৩শো মিলিগ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। সারা দিন যা-ই খান, লবণের পরিমাণ এটুকু থাকাই বাঞ্ছনীয়।না হয় বিপদ আসতে পারে যেকোনো সময়।বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার কারণে শরীরে নানা ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এখন প্রশ্ন হলো বেশি লবণ খাওয়ার কারণে শরীরের ওপর কী কী প্রভাব পড়তে পারে।বিশেষজ্ঞদের কথায়, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে দিনে ১৫শো মিলিগ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়।এদিকে অতিরিক্ত লবণের জন্য শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। ফলে আচমকা রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই হাই প্রেশার থাকলে বেশি লবণ খাওয়া অনুচিত।ওদিকে,অতিরিক্ত লবণ হার্ট ও রক্তনালিগুলোকে চাপ দিতে পারে, এথেরোস্ক্লেরোসিস, হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার সমস্যাগুলোকে বাড়িয়ে দিতে পারে এই অভ্যাস।পাশাপাশি কিডনি শরীরে তরলের মাত্রা ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত লবণ খেলে শরীরে তরলের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি থাকলে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।অতিরিক্ত লবণ খেলে শরীরে তরলের মাত্রা বাড়তে শুরু করে।শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এই তরল জমতে শুরু করে। এর ফলে অনেক সময়ে পায়ের পাতা, গোড়ালি বা হাতের বেশ কিছু অংশে ফোলা ভাব দেখা যায়। অন্যদিকে,অতিরিক্ত লবণ খেলে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। লবণ খেলে শরীরে জলের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায় বলে হাড় সহজেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।এছাড়া,বেশি লবণ খেলে ত্বকের নানা সমস্যা হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে অতিরিক্ত লবণ গেলে একজিমার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ত্বকে ফোলাভাব ও শুষ্কতা, চুলকানির মতো সমস্যাও হতে পারে। এ ছাড়া ত্বকে ফোলাভাব, শুষ্কতা, চুলকানি এবং চোখের চারপাশে ফোলাভাব হতে পারে।এই অবস্থায়,লবণ কম খাওয়ার উপায়,খাবারে কম সোডিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহার করুন। এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রান্নায় কম লবণ দিন। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। এর পরিবর্তে বেশি করে টাটকা শাক-সবজি ও ফল খান। প্রয়োজনে মসলা দিয়ে স্বাদ আনুন।
কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। সারা দিনের ডায়েটে কম সোডিয়াম, বেশি ফল, শাক-সবজি দুগ্ধজাত খাবার রাখুন।
